চার বছর ধরে শিকলবন্দি জীবন বগুড়ার নন্দীগ্রামের তরুণ গোলাম রব্বানীর (২৫)। ছেলের চিকিৎসার জন্য দরিদ্র বাবা-মায়ের আপ্রাণ চেষ্টা সফল হয়নি। এখন অর্থাভাবে রব্বানীর চিকিৎসা বন্ধ। বাধ্য হয়েই তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে শিকল দিয়ে।
উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশুন গ্রামের গোলাম মোস্তফার দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে রব্বানী বড়। সামান্য পড়াশোনা জানা রব্বানী পুরোপুরি সুস্থ একজন মানুষ ছিলেন। বাবাকে কৃষিকাজে সহায়তাও করতেন। কিন্তু ২০১৮ সালে হঠাৎ করেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন এই তরুণ।
ফলশ্রুতিতে প্রতিবেশীদের মারধর, ফসল ও ঘরের জিনিসপত্র নষ্ট করতেন রব্বানী। ছেলেকে আগের মতো সুস্থ করে তুলতে বাবা-মা সাধ্যমতো খরচ করেছেন। চিকিৎসার খরচ মেটাতে বিক্রি করে দিয়েছেন শেষ সম্বল ১০ কাঠা জমিও।
কিন্তু সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ২০১৯ সাল থেকে তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। অর্থাভাবে এখন আর দরিদ্র পরিবারটির পক্ষে ছেলেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
সম্প্রতি রব্বানীদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেকে খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন মা মর্জিনা বেগম। তার আগের দু'দিন রব্বানী কিছুই মুখে তোলেননি। সুদর্শন এই তরুণ তখন শিকল দিয়ে বাঁধা ছিলেন ছোট একটি জানালার সঙ্গে। সেই অবস্থাতেই দাঁড়িয়ে, শুয়ে আবার বসে দিন পার হয় তার।
মর্জিনা বেগম বলেন, “শিকল দিয়ে বেঁধে না রাখলে ছেলে গ্রামের মানুষদের মারপিট করে। প্রতিবেশীদের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর করে। বাড়ি ছেড়ে দূরে চলে যায়। তাই বাধ্য হয়ে এভাকে আটকে রাখা হয়। ওর জন্য রাতে আমাদের ঠিকমতো ঘুমও হয় না।”
তিনি আরও বলেন, “সংসার ঠিকমতো চলে না। কীভাবে রব্বানীর ভালো চিকিৎসা করাই? মা হয়ে ছেলের এ অবস্থা আর সহ্য হয় না।”
একই বেদনার সুর বাবা গোলাম মোস্তফার কণ্ঠেও।
স্থানীয় থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মতিন বলেন, “মানসিক প্রতিবন্ধী গোলাম রব্বানীর বিষয়টি কিছুদিন আগে শুনেছি। ব্যক্তিগত ও পরিষদের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে সহযোগিতা করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শিফা নুসরাত বলেন, “গোলাম রব্বানীর কথা শোনার পর তাদের বাড়িতে সমাজসেবা কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়। তার বাবাকে আসতে বলা হয়েছে। তাদের বাড়িতেও যাওয়া হবে। সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবারটিকে সহযোগিতা করা হবে।”
তরুণ গোলাম রব্বানীর চিকিৎসায় সহায়তার জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন ইউএনও।