আমির হামজাকে বাদ দিয়ে স্বাধীনতা পুরস্কারের নতুন তালিকা প্রকাশ

সমালোচনার মুখে স্বাধীনতা পুরস্কারের তালিকার “সাহিত্য” ক্যাটাগরি থেকে মো. আমির হামজার নাম বাদ দিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তবে আমির হামজাকে বাদ দিয়ে নতুন করে কাউকে মনোনীত করা হয়নি।

শুক্রবার (১৮ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জিল্লুর রহমান স্বাক্ষরিত সংশোধিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।

এর আগে ১৫ মার্চ জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১০ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে “স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২২”-এর জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়। সেই তালিকায় আমির হামজাকে রাষ্ট্রীয় এ সর্বোচ্চ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়।

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিভাগে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী, শহীদ কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা (বীর বিক্রম), আব্দুল জলিল, সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, মরহুম মোহাম্মদ ছহিউদ্দিন বিশ্বাস, মরহুম সিরাজুল হক। চিকিৎসাবিদ্যায় পুরস্কার পাচ্ছেন অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া ও অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলাম। স্থাপত্যে প্রয়াত স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন।

গবেষণা ও প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিডব্লিউএমআরআই) এবং সাহিত্যে পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল মো. আমির হামজাকে।

স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক পুরস্কার। ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা, আঠারো ক্যারেট মানের পঞ্চাশ গ্রাম স্বর্ণের পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হবে।

এদিকে তালিকায় আমির হামজার নাম আসার পর শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। সাহিত্যিক ও পাঠকমহলে একেবারে পরিচয়হীন আমির হামজার সাহিত্যে স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়া নিয়ে সমালোচনায় সরব হয়ে উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি ৮৭ বছর বয়সে আমির হামজা মারা যান। তার বাড়ি মাগুরার শ্রীপুরে। তিনি মাত্র দুটি বই লিখেছেন। সেগুলো হচ্ছে “বাঘের থাবা” ও “পৃথিবীর মানচিত্রে একটি মুজিব তুমি”। এই বইগুলো বের হয়েছে ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে।

এদিকে প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, খুনের মামলায় আসামি ছিলেন মো. আমির হামজা। ঘটনাটি ঘটে ১৯৭৮ সালে, মাগুরার শ্রীপুরের বরিশাট গ্রামে। ওই মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় মো. আমির হামজাসহ মোট ছয়জনের। তবে খুনের মামলায় আসামি হওয়ার কথা স্বীকার করলেও দণ্ড পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন আমির হামজার বড় ছেলে মো. আলী মর্তুজা।

১৯৭৮ সালে মো. শাহাদাত হোসেন ফকির নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার মামলায় এক নম্বর আসামি হন আমির হামজা। জমির ধান কাটা নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন শাহাদত ফকির।

সরকার নির্ধারিত ফরম পূরণ করে বাবার জন্য স্বাধীনতা পুরস্কারের আবেদন করেন করেন আমির হামজার মেজ ছেলে খুলনা জেলা পরিষদের সচিব মো. আছাদুজ্জামান। বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন। আর তাতে সুপারিশ করেন বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, বাণিজ্য সচিব জাতীয় পুরস্কার দেওয়ার জন্য ১৬ জন সচিবের সমন্বয়ে গড়া “প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটি”র সদস্যও। তপন কান্তি জানান, তিনিই সুপারিশ করেছিলেন এবং আমির হামজা সম্পর্কে তেমন কিছু তিনি জানতেনও না।