রাজবাড়ীতে প্রচণ্ড গরমে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। বর্তমানে এর প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রুপ নিয়েছে।
সোমবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালটি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালটির ডায়রিয়া ওয়ার্ডের শয্যা সংখ্যা ২০টি। অথচ ওয়ার্ডটিতে রোগী ভর্তি রয়েছেন ৫২ জন। ওয়ার্ডে সিট না থাকায় অনেক বেডে দুজন করে রোগী রাখা হয়েছে।
এমনকি হাসপাতালের মেঝেতেও দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় হাসপাতালে পাশের ময়লার ড্রেনের পাশে গাছের নিচেও রোগীদের চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি রোগী ছাড়াও এ মাসে এ পর্যন্ত দুই শতাধিক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন।
আরও পড়ুন
- ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে শিক্ষিকার মৃত্যু
- লাঙ্গলবন্দ স্নানোৎসবে ২০ পুলিশ সদস্যসহ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৩৩
- ডায়রিয়ায় আক্রান্ত তিন লাখেরও বেশি, একদিনে রোগী ভর্তির রেকর্ড
- যে কারণে হয় ডায়রিয়া: লক্ষণ, প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উপায়
জায়গার অভাবে ময়লার ড্রেনের পাশে
রাজবাড়ী পৌরসভা এলাকার কুলসুম বেগম ডায়রিয়া আক্রান্ত ছেলে কাওসার মাহমুদকে হাসপাতালে নিয়ে যান, তবে শয্যা না পেয়ে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সময় বলেন, “হঠাৎ ডায়রিয়া বেড়ে গেছে। হাসপাতালে সিট না থাকায় বাইরে রোগীরা বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জেলা শহরে সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া রোগীর জন্য মাত্র ২০টা সিট দিয়ে কীভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব? সিট আরও বেশি দরকার। আমার ছেলেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি।”
ময়লা ড্রেনের পাশে চিকিৎসা নেওয়া রোকসানা আক্তারের স্বামী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “সোমবার সকালে হাসপাতালের মধ্যে কোনও সিট ও জায়গা না পাওয়ায় বাইরে নোংরা পরিবেশে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছি। গত দুই দিন ধরে আমার স্ত্রীর ডায়রিয়া ও বমি হচ্ছে। যে পরিবেশে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছি তাতে মনে হয় ভোগান্তি আরও বেড়ে যাবে। তারপর আবার সময়মতো ডাক্তার পাচ্ছি না।”
রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. ইব্রাহিম টিটন বলেন, “প্রচণ্ড গরমের কারণে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান সময়ে সবাইকে খাওয়া-দাওয়াসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে আরও সচেতন হতে হবে। হাসপাতালে রোগীর চাপ সামাল দিতে আমরা চিন্তাভাবনা শুরু করেছি। দ্রুত ডায়রিয়াজনিত রোগীর জন্য আলাদা একটি ওয়ার্ড বরাদ্দ দেওয়া হবে।”