ইতালিতে বসবাসের অনুমতিতে শীর্ষ পাঁচে বাংলাদেশিরা

গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে জোটের বাইরের প্রায় ৩০ লাখ অভিবাসী প্রথমবারের মতো বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন, যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ৫০% বেশি। ইতালিতে অনুমতিপ্রাপ্তদের মধ্যে বাংলাদেশিরা রয়েছেন শীর্ষ পাঁচে।

২০২১ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে প্রথমবার বসবাসের অনুমতি বা রেসিড্যান্স পারমিট পাওয়াদের সংখ্যা বেড়ে কোভিড পূর্ব পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২১ সালে ২৯ লাখ ৫২ হাজার ৩০০ জন দেশগুলোতে অনুমতি পেয়েছেন। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৯ লাখ ৫৫ হাজার ৩০০। এর পেছনে কর্মসংস্থান সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান দপ্তর ইউরোস্ট্যাটের হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

কর্মসংস্থানে উল্লম্ফন

কাজের কারণে গত বছর ১২ লাখ মানুষ প্রথমবারের মতো ইইউ দেশগুলোতে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন, যা গত বছরের চেয়ে ৪৭% বেশি। এই পরিসংখ্যান প্রকাশের পর থেকে এটি এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।

গত বছর শিক্ষার কারণে প্রথমবার বসবাসের অনুমতি পাওয়ার হার ৪২% বা এক লাখের বেশি বেড়েছে। এছাড়া পারিবারিক পুনর্মিলনে ১৪% ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা ব্যবস্থার অধীনে অনুমতির সংখ্যা ১৫% বেড়েছে।

২০২১ সালে অনুমতিপ্রাপ্তদের ৪৫% কর্মসংস্থান, ২৪% পারিবারিক পুনর্মিলন, ১২% শিক্ষা ও ১৯% আন্তর্জাতিক সুরক্ষার অধীনে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন।

ভারতীয়রা শীর্ষ পাঁচে

প্রথমবার রেসিড্যান্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্তদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন ইউক্রেনীয়রা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার হামলার পর ইউক্রেনের বিপুল শরণার্থী প্রতিবেশী ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে তার আগের বছরই আট লাখ ৭৫ হাজার ইউক্রেনীয় প্রথমবারের মতো ইইউ দেশগুলোতে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে আছে মরক্কো। দেশটির দেড় লাখের বেশি মানুষ গেল বছর প্রথমবার বসবাসের অনুমতি পেয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা বেলারুশ নাগরিকের সংখ্যা এক লাখ ৪৯ হাজার জন। চতুর্থ অবস্থানে আছেন ভারতীয়রা। দেশটির এক লাখ ১০ হাজার ৬৪১ জনের মধ্যে ৪১% কাজের সূত্রে অনুমতি পেয়েছেন। যাদের প্রায় অর্ধেকই কাজের সূত্রে এসেছেন।

ভারতীয়দের সবচেয়ে বেশি সাড়ে ১১%-এর গন্তব্য ছিল ইতালি। নেদারল্যান্ডসে ১০.৭% ও আয়ারল্যান্ডে অনুমতি পেয়েছেন ৯.৭%।

প্রথমবার বসবাসের অনুমতি পাওয়াদের মধ্যে শীর্ষ ১০-এ এরপর আছে রাশিয়া, ব্রাজিল, তুরস্ক, চীন ও হংকং, সিরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র।

কাজের জন্য পোল্যান্ড, শিক্ষার জন্য ফ্রান্স

গত বছর পোল্যান্ড প্রায় ১০ লাখ মানুষকে প্রথমবার বসবাসের অনুমতি দিয়েছে, যা জোটভুক্ত দেশগুলোর ৩৩%। এরমধ্যে সাত লাখ ৯০ হাজার মানুষ কাজের সূত্রে অনুমতি পেয়েছেন। ইউক্রেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অংশ হিসেবে ২০২১ সালে ছয় লাখ ৬৬ হাজার জন দেশটিতে চাকরির জন্য এসেছেন।

পোল্যান্ডের পরে এই তালিকায় আছে স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডস। এই ছয় দেশ মিলে চার ভাগের তিন ভাগ রেসিড্যান্স পারমিট ইস্যু করেছে ২০২১ সালে।

স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স এবং জার্মানিতে সবচেয়ে বেশি মানুষ অনুমতি পেয়েছেন পারিবারিক পুনর্মিলনের কারণে। অন্যদিকে, গত বছর শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি গন্তব্য ছিল ফ্রান্সে। দেশটিতে ৯০ হাজার ৬০০ জন গত বছর পড়াশোনার কারণে থাকার অনুমতি পেয়েছেন যাদের বেশিরভাগই চীনের নাগরিক।

বাংলাদেশিদের গন্তব্য ইতালি

গত বছর ইতালি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের বিভিন্ন দেশের দুই লাখ ৯৫ হাজার জনকে প্রথমবার বসবাসের অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৯ হাজার ৭৩২ জনই আলবেনিয়ার। মরক্কোর ২৩ হাজার ৭৬৬ জন, পাকিস্তানের ১৮ হাজার ২৩২ জনও অনুমতি পেয়েছেন। এরপরই রয়েছেন বাংলাদেশিরা। ১৭ হাজার ৯৮৭ জন বাংলাদেশি সেখানে বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন, যা ৬.৬%।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর কোনো দেশে ২০২১ সালে বসবাসের অনুমতি পাওয়াদের মধ্যে প্রথম পাঁচে নেই বাংলাদেশিরা। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ইতালি দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশিদের অন্যতম গন্তব্য। ইউরোপের বহিঃসীমান্তরক্ষী সংস্থা ফ্রনটেক্স-এর হিসাবে ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে অবৈধভাবে ইতালি প্রবেশের তালিকায় বাংলাদেশিরা রয়েছেন দ্বিতীয় অবস্থানে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) হিসাবে এ যাবৎকালে দেশটিতে কাজের ভিসা নিয়ে যাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা ৫৬ হাজার ১৭৩ জন। গত বছর দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা ৮৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন দেশে, যা ইতালি থেকে বিভিন্ন দেশে যাওয়া মোট রেমিট্যান্সের ১১.৩%।