কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পদ্মা নদীতে জেলের জালে একটি বিষধর রাসেল ভাইপার সাপ ধরা পড়েছে। সাপটিকে পরে গড়াই নদীতে অবমুক্ত করা হয়। ফলে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের সৈয়দ মাসুদ রুমী সেতুর নিচে গড়াই নদীতে সাপটিকে অবমুক্ত করা হয়।
নদীপাড়ের বাসিন্দারা বলছেন, “নদীর পাড়ে হাজার হাজার মানুষের বসবাস। এখানকার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে নদীর পানি ব্যবহার করেন। এখানে এত ভয়ংকর সাপটি ছেড়ে দেওয়া ঠিক হয়নি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের জেলে মো. শামিম হোসেন প্রায়দিনই পদ্মায় দোয়াড় জালের ফাঁদ পেতে মাছ শিকার করেন। মঙ্গলবার সকালে জাল থেকে মাছ বের করতে যান। তখন তিনি মাছের পরিবর্তে একটি সাপ দেখতে পান। প্রথমে তিনি অজগর সাপ মনে করে স্থানীয়দের খবর দেন। পরে বন বিভাগের লোকজন এসে জানায় এটি বিষধর রাসেল ভাইপার। পরে সাপটিকে বনবিভাগের লোকজন নিয়ে যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, রাসেল ভাইপার খুবই বিষাক্ত। সাপটি বাংলাদেশে চন্দ্রবোড়া বা উলুবোড়া নামেও পরিচিত। দেশে সেসব সাপ দেখা যায়, তাদের মধ্যে রাসেল ভাইপার সবচেয়ে বিষাক্ত। এ সাপের কামড়ে বিষ ছড়িয়ে অঙ্গহানি, ক্রমাগত রক্তপাত, রক্তজমাট বাঁধা, স্নায়ু বৈকল্য, চোখ ভারি হয়ে যাওয়া, পক্ষাঘাত, কিডনির ক্ষতিসহ বিভিন্ন রকম শারীরিক উপসর্গ দেখা যেতে পারে।
এ বিষয়ে জেলে মো. শামিম হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “প্রতিদিনই জাল পেতে পদ্মায় মাছ ধরি। আজ সকালে জাল তুলে দেখি একটি অন্যরকম সাপ। যা আগে কখনও দেখিনি। প্রথমে অজগর মনে করেছিলাম। পরে বনবিভাগের লোক এসে বললেন এটি বিষাক্ত রাসেল ভাইপার। সাপটি বনবিভাগের লোকজন এসে নিয়ে গেছেন।”
উপজেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি মো. আকরাম হোসেন বলেন, “পদ্মা থেকে এনে গড়াইয়ে ছেড়ে দিয়ে লাভ কী হলো? বরং গড়াইয়ের পাড়ে পদ্মার চেয়ে বেশি মানুষ বাস করেন। সাপটি অনেক দূরে কোথাও ফাঁকা স্থানে অবমুক্ত করার দরকার ছিল।”
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এখানে আমাদের কিছু করার নেই। বিষয়টি বনবিভাগের। তারাই ভালো বলতে পারবেন।”
এ বিষয়ে উপজেলা বনবিভাগের কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “পদ্মা নদীতে মাছ ধরা জালে একটি বিষাক্ত রাসেল ভাইপার আটকা পড়েছিল। সকালে খবর পেয়ে এই সাপটি জব্দ করা হয়। পরে গড়াই সেতুর (সৈয়দ মাসুদ রুমী সেতু) নিচে অবমুক্ত করা হয়।”
এ বিষয়ে জেলা বনবিভাগের বন-কর্মকর্তা জি এম মোহাম্মদ কবির ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “ধারণা করা হচ্ছে সাপটি পদ্মা নদী হয়ে ভারত থেকে এসেছে। জব্দ করার পর গড়াই নদে অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে আতঙ্কের কিছু নেই। নদী বেয়ে অন্যত্র চলে যাবে।”