শর্ত সাপেক্ষে গ্রামীণফোনকে মাত্র ৭৮ হাজার মোবাইল সিম বিক্রির অনুমতি দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিটিআরসি। সশস্ত্র বাহিনী, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এমএনপি-সহ (নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর পরিবর্তন) অন্যান্য কাজের জন্য ৭৮ হাজার সিম বিক্রির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।
রবিবার (২০ নভেম্বর) বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের উপ-পরিচালক মাহদী আহমদের সই করা চিঠিতে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, “সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ৬ হাজার ৫১৯টি, অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য ২১ হাজার ৪৮১টি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের (কর্পোরেট ব্যবহারকারী) জন্য ৩৫ হাজার, যানবাহন ট্র্যাক (ভিটিএস) করার জন্য ১০ হাজার এবং এমএনপির সেবার জন্য ৫ হাজারসহ মোট ৭৮ হাজার সিম বরাদ্দ করা হয়েছে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে বিক্রির জন্য কোনো সিম বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।”
আরও পড়ুন- নতুন-পুরাতন কোনো সিমকার্ড বিক্রি করতে পারবে না গ্রামীণফোন
চিঠিতে আরও বলা হয়, “সশস্ত্র বাহিনী, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে যেসব ব্লক/নম্বর বরাদ্দ রয়েছে- শুধু সেসব ব্লক/নম্বর থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নম্বর বা সিম বিক্রি করা যাবে।”
২০২২ সালের ২৯ জুন অপারেটরদের “গুণগত মানসম্পন্ন পরিষেবা দিতে ব্যর্থতার” কারণে গ্রামীণফোনের নতুন সিমকার্ড বিক্রির ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতাদেশ দেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এরপর ৬ নভেম্বর গ্রামীণফোনের পুরানো সিমকার্ড বিক্রিতে স্থগিতাদেশ দেয় সংস্থাটি।
২৯ জুন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, “আমরা চেষ্টা করেও গ্রামীণফোনের সেবার মান ভালো করার কোনো উদ্যোগ নিতে দেখিনি। তারা গ্রাহক বাড়াবে, কিন্তু সেবার মান বাড়াবে না, এটা হতে দেওয়া যাবে না। যতদিন না তারা সেবার মান ভালো করবে এবং তা সন্তোষজনক পর্যায়ে উন্নীত না হবে ততদিন গ্রামীণফোনের সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।”
আরও পড়ুন- ৪১টি সিমকার্ড, অনেকগুলো বিয়ে এবং একজন ভুয়া সাংবাদিক
এরপর ৬ নভেম্বর বিটিআরসি ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার গ্রামীণফোনের পুরানো সিমকার্ড বিক্রিতে স্থগিতাদেশ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “গ্রামীণফোনকে ১৩ লাখ পুরনো সিমকার্ড বিক্রির বিটিআরসির অনুমোদন রবিবার স্থগিত করা হয়েছে।”
বিটিআরসি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মে মাস পর্যন্ত গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা ৮ কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার।
প্রসঙ্গত, ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নিলামে সবচেয়ে বেশি তরঙ্গ (৬০ মেগাহার্টজ) কেনে গ্রামীণফোন। এর আগে গ্রামীণফোনের হাতে ছিল ৪৭.৪০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ। সব মিলিয়ে অপারেটরটির তরঙ্গের পরিমাণ ১০৭.৪০ মেগাহার্টজ। যদিও বাকি অপারেটরদের মতো গ্রামীণফোনও নতুন বরাদ্দ পাওয়া তরঙ্গ ব্যবহার করতে পারছে না। আগামী ডিসেম্বর থেকে অপারেটরগুলো তরঙ্গ ব্যবহার করতে পারবে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, বর্তমানে এক মেগাহার্টজ তরঙ্গে গ্রামীণফোন ১৪ লাখ লাখ গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে, অন্যান্য অপারেটরের চেয়েও যা বেশি। নতুন তরঙ্গ যুক্ত হলে তা হবে (এক মেগাহার্টজে) ৭ লাখ ৭০ হাজার গ্রাহক।