ভালোবাসার দিনে আসল লাভটা করেছেন ফুল ব্যবসায়ীরা

বছরের বিশেষ দিনগুলোয় ফুলের চাহিদা এবং দাম স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবস এবং পহেলা ফাল্গুনের বসন্তবরণের দিনে তো ফুলের বিশেষ করে গোলাপের উপযোগিতা বলে শেষই করা যাবে না। অনুমিতভাবেই গোলাপের দামও কয়েকগুণ চড়া। আগের দিনও যে গোলাপের দাম ছিল ৪০ টাকা, ঘড়ির কাঁটা ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই তার দাম ৮০ থেকে ১৫০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। অনেক ক্রেতাই ফুলের বাড়তি দাম নিয়ে অভিযোগ করেছেন।

মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঢাকার ফার্মগেট, ধানমন্ডি ও শাহবাগের বিভিন্ন ফুলের দোকান ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রকারভেদে প্রতিটি গোলাপ খুচরায় ৬০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস ফুলের হেয়ার ব্যান্ড কিনতে খরচ হচ্ছে ১৩০ টাকা। প্রতিটি গাঁদা ফুলের মালা ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রজনীগন্ধা, চন্দ্র মল্লিকা ৩০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

ধানমন্ডির মা-বাবার দোয়া পুষ্পকেন্দ্রের ফুলের দোকানে ফুল কিনতে আসা মার্জানা হাসান নামে এক তরুণী বলেন, এবার ফুলের দাম অনেক বেশি। গতবার ৮০ টাকা দিয়ে আমি চারটি গোলাপ কিনেছিলাম। আজ ৮০ টাকায় একটি ভালো গোলাপ পাওয়া যাচ্ছে না। হেয়ার ব্যান্ড কিনতে ৫০ টাকার বেশি কখনও লাগেনি। আজ একই হেয়ার ব্যান্ড আমাকে ১৩০ টাকায় কিনতে হয়েছে।

ধানমন্ডির মা-বাবার দোয়া পুষ্পকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মামুন মিয়া অবশ্য দাবি করেন, আমরা কমেই বিক্রি করছি। অন্যান্য জায়গায় আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

ধানমন্ডির মা-বাবার দোয়া পুষ্পকেন্দ্রের একটু দূরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী কৌশিক রহমানের দেওয়া খণ্ডকালীন ভ্রাম্যমাণ ফুলের দোকানে আরও চড়া দামে গোলাপ বিক্রি হতে দেখা যায়। কৌশিক রহমান বলেন, প্রতি পিস ভালো গোলাপ ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি করছি। শাহবাগ থেকে ফুল এনে এখানে বিক্রি করছি। পাইকারিতে অনেক বেশি দামে ফুল কিনতে হয়েছে। তাই আমাকে সেভাবেই দাম রাখতে হচ্ছে। বিকেলের দিকে আরও বেশি দামে বিক্রি হতে পারে।

ফার্মগেটের একটি ভ্রাম্যমাণ ফুলের দোকান থেকে ১২০ টাকায় দুটি গোলাপ কেনা রুহান ও সাবরিনা বলেন, ১০ টাকার গোলাপ ৬০ টাকায় নিয়েছি। আমরাও কিছু বলতে পারছি না। উপহারের জিনিস বলে এত দাম রাখবে কেন?

বাড়তি দাম নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগ প্রসঙ্গে শাহবাগ ক্ষুদ্র ফুল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি গতকালও বলেছি, এবার বাগান মালিকরা চড়া দামে ফুল ছাড়ছেন। এ কারণে খুচরা ফুলের দোকানিদেরও বেশি দামে ফুল সংগ্রহ করেতে হয়েছে। তাই গতবারের তুলনায় এবার ফুলের দাম একটু বেশি।