রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় শিরিন ম্যানশন নামের বাণিজ্যিক ভবনটিতে রবিবারের (৫ মার্চ) বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত তিনজন একই প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছিলেন। তারা সবাই নিউ জেনারেশন লায়রা প্রতিষ্ঠানের কর্মী বলে জানা গেছে।
নিহতরা হলেন- ঐ প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার অপারেটর মো. শফিকুজ্জামান শেখ (৪৬), ডেলিভারি ম্যান আব্দুল মান্নান খলিফা (৬৩), ও প্রতিষ্ঠানে স্টোর কিপার মো. সাদেকুর রহমান তুষার (৩২)।
তিনটি লাশই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায় নিউমার্কেট থানা পুলিশ। সোমবার সকালে লাশ তিনটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে ঢাকা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই বাচ্চু মিয়া।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
শফিকুজ্জামান শেখের বড় ভাই মহিউদ্দিন জানান, তার ভাই স্ত্রী পপি খাতুন এবং দুই সন্তান আরাফাত জামান (১১) সোয়েবাকে (৫) নিয়ে সাভারের গেন্ডা সি ব্লকে থাকতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুরে।
মোছাদ্দেক হোসেন আশিক জানান, তার বাবা আব্দুল মান্নান ওই প্রতিষ্ঠানের অর্ডার করা মালামালের সাপ্লাই ম্যান হিসেবে চাকরি করতেন। গাজীপুরের টঙ্গীর গাজিপুর কাজিপাড়া কোনাপাড়া রোডে তাদের বাড়ি। বর্তমানে লালবাগ পোস্তা ইয়াসিন ব্যাপারী গলিতে পরিবার নিয়ে থাকেন। একমাস আগে তার এক বোন মারা গেছেন।তাকে আজিমপুরে দাফন করা হয়েছে। সেই শোক পার হতে না হতেই বাবা মারা গেলেন। লাশ পেলে বোনের কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হবে।
নিহত সাদেকুর রহমান তুষারের বড় ভাই শফিকুর রহমান জানান, তাদের বাড়ি নরসিংদী বেলাবো উপজেলার ভর্দশ্বর গ্রামে। দুই ভাইয়ের মধ্যে সাদেকুর ছোট। বর্তমানে সবুজবাগের কদমতলার বাসাবোতে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। স্ত্রী জেরিন আক্তার, আদিবা নামে এক মেয়ে রয়েছে। এছাড়া তাদের মা নিলুফা ইয়াছমিন কিডনিজনিত সমস্যার কারণে ডায়ালাইসিসের রোগী। দুই ভাইয়ের উপার্জন দিয়ে মায়ের চিকিৎসা করাতেন।
এর আগে, রবিবার সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে শিরিন ম্যানশনে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সেখানে আগুন ধরে যায় এবং ভবনটির কিছু অংশ ধসে পড়ে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও ১৪ জন আহত হয়ে ঢামেক হাসপাতাল ও শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আছেন। ভবনটির তিনতলায় ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অফিস থেকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।