গুলিস্তানে বিস্ফোরণ: ভবন ব্যবহার করতে রাজউকের ৫ সুপারিশ

রাজধানীর গুলিস্তানের সিদ্দিকবাজারে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত সাততলা ভবনটি ব্যবহার উপযোগী করতে রাজউকের গঠিত তদন্ত কমিটি পাঁচ দফা সুপারিশ করেছে। এরই মধ্যে সুপারিশের প্রতিবেদনটি রাজউক চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান মিঞার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

কারিগরি কমিটির আহ্বায়ক ও রাজউক সদস্য (পরিকল্পনা) মেজর অবসরপ্রাপ্ত শামসুদ্দিন আহমদ চৌধুরী সোমবার (১৩ মার্চ) অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন ।

তিনি বলেন, “রাজউকের কমিটির দায়িত্ব দিয়েছিল ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি বসবাসযোগ্য আছে কি-না, না থাকলে বসবাসযোগ্য করতে কী করা যেতে পারে—এটা দেখা। ওই কমিটিতে ৬ সদস্যের সবাই সিভিল ইঞ্জিনিয়ার।”

তিনি আরও বলেন, “ভবনটা দেখার পর দুই কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছিল। আমাদের কার্যদিবস ছিল বৃহস্পতিবার আর রবিবার। শেষদিন রাতেই সুপারিশ প্রতিবেদনে সই করেছি, আজ জমা দিলাম। আমরা ৫টি সুপারিশ করেছি।”

প্রথম সুপারিশে বলা হয়েছে, অতিদ্রুত প্রোপিং (ভারবহনের সক্ষমতা বাড়ানো) করে ভবনটিকে স্থিতিশীল করতে হবে। 

মেজর অবসরপ্রাপ্ত শামসুদ্দিন আহমদ চৌধুরী জানান, ভবনটির ২৪টি কলামের ৯টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৯টির মধ্যে ৪টি আবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এগুলোকে প্রোপিং করে সমান্তরাল সাপোর্ট দিয়ে ভবনটি স্থিতিশীল (স্টেবল) করতে প্রথম সুপারিশটি করেছেন তারা।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, “সুপারিশটা মনিটরিং করে দুইদিনের মধ্যে কাজও শেষ করেছি। আমাদের প্রথম কাজটা হয়ে গেছে। প্রথম সুপারিশের আরেকটি অংশ ছিল ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির ২৬ ফিট দূরত্বে ব্যারিকেড দেওয়া। এখন যেখানে ব্যারিকেড দেওয়া রয়েছে—ওই জায়গায় ব্যারিকেডটা রেখে রাস্তার যে অংশটি খালি থাকবে ওইখানে সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত যাত্রীবাহী যেকোনো গাড়ি চলাচল করতে পারবে। কারণ রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ভারী যানবাহন চলে। এসব ভারী যান অনেক গতিতে চলে, তাই এগুলোকে এ রাস্তা এভয়েড করতে বলেছি।”

দ্বিতীয় সুপারিশে বলা হয়েছে— ৪৫ দিনের মধ্যে ভবনটির ডিটেইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট করতে হবে। 

এ বিষয়ে তিনি বলেন, “এখন ভবনটির কাঠামোগত অবস্থান (স্ট্রাকচারালি পজিশন) জানতে এর একটি প্রকৌশলগত মূল্যায়ণ (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট) করতে হবে। সয়েল কন্ডিশনসহ ভবনটির কলাম ও বিম কী অবস্থায় আছে—এসব জানতে পরীক্ষা করতে হবে। এগুলোর জন্য আমরা ৪৫ দিন সময়ের কথা বলেছি।”

তিন নম্বর সুপারিশে ভবনটির কাঠামোর সক্ষমতা বাড়াতে রেট্রোফিটিং করার কথা বলা হয়েছে।

মেজর অবসরপ্রাপ্ত শামসুদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, “এটা করতে লাগে ৬ মাস। মূলত ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্টের মধ্যে রেট্রোফিটিং বিষয়টা চলে আসে। ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্টে দেড় মাস আর রেট্রোফিটিংয়ে ৬ মাস লেগে যাবে।”

সুপারিশের চার নম্বরে বলা হয়েছে—ডিটেইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট ও রেট্রোফিটিং সম্পন্ন না হওয়ার পর্যন্ত ভবনটিতে কেউ বসবাস করতে পারবে না।

পঞ্চম সুপারিশে বলা হয়েছে—ভবনটির সার্বিক দিক মূল্যায়ণ করে কারিগরি কমিটি সনদ দিলে তারপর সেটিতে বসবাস করা যাবে।

উল্লেখ্য ৭ মার্চ, মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে গুলিস্তানের (সিদ্দিকবাজার) সাততলা ওই ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৪ জন। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় শতাধিক ব্যক্তিকে।