আমের কয়েকটি উন্নতমানের জাতের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে গোপালভোগ। রাজশাহীর বাজারে সেই গোপালভোগ আম এসেছে। তবে শুরু থেকেই দাম চড়া। বর্তমানে বাজারে মানভেদে মণপ্রতি ১,৬০০ থেকে ২,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজশাহীর জেলার আম সংগ্রহ, পরিবহন, বিপণন ও বাজারজাত মনিটরিং সংক্রান্ত সভায় ঘোষিত ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, সোমবার (১৫ মে) থেকে গোপালভোগ আম বাজারে এসেছে। বাজারে গোপালভোগ আসার খবর পেয়ে গেছেন অনলাইনে আম সরবরাহকারীরাও। তারা আমের গাড়ির সঙ্গে ভিডিও কল করে ক্রেতাদের ছবি দেখাচ্ছেন। এতে আম পাকা নিয়ে তারা ক্রেতাদের বিভ্রান্তি দূর করছেন।
রাজশাহীর বানেশ্বরের ব্যবসায়ী ফারুক জোয়ারদার জানান, প্রথম দিনেই তিনি গাছ থেকে ১২ মণ গোপালভোগ আম নামিয়েছেন। সেই আম তিনি মণপ্রতি ২,০০০ থেকে ২,২০০ টাকায় বিক্রি করছেন।
রাজশাহী দুর্গাপুর উপজেলার আম ব্যবসায়ী ওয়াজনবী জানান, বানেশ্বর বাজারে তিনি ১৫ মণ গোপালভোগ আম এনেছেন। তিন-চার দিন আগে থেকে আমার বাগানের আম পাকা শুরু হয়েছে। ১৫ মণ ১,৪০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আমের সুনাম দেশজুড়ে। ইতোমধ্যে হাট-বাজারে স্বাদের চোষা (গুটি) ও গোপালভোগ জাতের আম বাজারে উঠেছে। আমের বাম্পার ফলন হলেও মৌসুমের শুরুতে দাম তুলনামূলক বেশি বলে জানান ক্রেতারা। চলমান মৌসুমে ৮০০ কোটি টাকার আম বেচা-কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন বাঘা উপজেলা কৃষি অফিস।
বাঘা উপজেলার আড়ানী বাজারের আমের আড়তদার নওশাদ আলী জানান, গতবারের চেয়ে এ বছর আম বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে বাজারে মণপ্রতি গোপালভোগ ১,৬০০ থেকে ২,০০০ টাকা ও চোষা (গুটি) ৮০০ থেকে ১,২০০ টাকায় দরে কেনাবেচা হচ্ছে।
বাঘা বাজারের শাহদৌলা ফল ভান্ডারের প্রোপাইটর কামরুল ইসলাম জানান, ৪ মে থেকে প্রতিদিন এক ট্রাক করে তোষা (গুটি) এবং ১৫ মে থেকে সিলেটের কতমতলী, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, নারায়নগঞ্জ, হবিগঞ্জের মাধবপুরে পর্যায়ক্রমে গোপালভোগ আম পাঠাচ্ছি। তবে পুরোদমে শুরু হলে দেশের বিভিন্নস্থানে প্রতিদিন ৪-৫ ট্রাক করে আম পাঠানো হবে। আমার অধীনে প্রায় দুই শতাধিক ব্যবসায়ী রয়েছে।
বাঘা উপজেলার বাউসা গ্রামের ব্যবসায়ী সাজদার রহমান জানান, চাষীর হাত থেকে আম পাইকার ফড়িয়ার হাত হয়ে আড়তে গিয়ে চালনি ব্যাপারীদের হাতে যাওয়ায় ধাপে ধাপে দাম ও খরচ বাড়ে। এসব কাজে শতশত মানুষ জড়িত। সবাই কিছু না কিছু আয়-উপার্জন করে।
পুঠিয়া উপজেলার চিতলপুকুর এলাকার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, এখনও বাজারে বেশি ক্রেতার সমাগম ঘটেনি। তবে আম নিয়ে ব্যবসায়ীদের ছোটাছুটি শুরু হয়ে গেছে।
পুঠিয়ার বানেশ্বর আমবাজারের ইজারাদার আবুল কালাম আজাদ বলেন, গোপালভোগ আম ১,৬০০ থেকে ১,৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে। তবে দুই দিনে বেশি আম বাজারে আসেনি।
নগরীর বাশাররোড় এলাকার আম ক্রেতা রাজু আহমেদ জানান, এবার প্রথম থেকে গোপালভোগ আমের দাম বেশি মনে হচ্ছে। উপশহর নিউমার্কেট এলাকা থেকে আধা কেজি গোপালভোগ পাকা আম কিনেছি ৩০ টাকায়, যা গতবার শুরুর দিকে ১৫-২০ টাকায় পাওয়া যেতো।
রাজশাহী জেলায় ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডারের ঘোষণা অনুযায়ী, গুটি আমের পর গোপালভোগ ১৫ মে, লক্ষ্মণভোগ বা লখনা ও রানীপসন্দ ২০ মে এবং হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাতি ২৫ মে থেকে বাজারজাত করা যাবে। বাকি অন্যান্য জাতের আম এর পরপর বাজারে আসবে। সেই হিসাব অনুযায়ী, সোমবার থেকে রাজশাহীর বিভিন্ন বাজারে গিয়ে গুটি আমের সঙ্গে গোপালভোগ আমের দেখা মিলছে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোজদার হোসেন জানান, রাজশাহীতে ১,৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে গোপালভোগ আম চাষ হয়ে থাকে। এবার সোমবার থেকে এ আম পাড়ার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল। তার দুই-তিন দিন আগে থেকে আম পেকেছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা। দামও ভালো পাচ্ছেন তারা।