বাগদার বিকল্প হিসেবে স্বপ্ন দেখাচ্ছে ভেনামী চিংড়ি

নানা সংকটের মুখে থাকা সম্ভাবনাময় চিংড়ি শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকিয়ে রাখতে বাগদার বিকল্প হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে ভেনামী চিংড়ির পাইলট প্রকল্প।

সফলভাবে উৎপাদিত হলে দেশের সম্ভাবনাময় চিংড়ি শিল্পকে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পে ২য় বারের মতো খুলনার পাইকগাছার লোনা পানি গবেষণা কেন্দ্রের চারটি পুকুরে পোনা অবমুক্তির মাধ্যমে শুরু হয় এ কার্যক্রম। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ছয়টি পুকুরের নমুনয়ন ও পরিদর্শনে ফুটে উঠেছে এর ধারাবাহিক সফলতার চিত্র।

শুক্রবার (৬ আগস্ট) এই চিংড়ি আহরণ করা হলে সফলতার চিত্রের দেখা মেলে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বের চিংড়ির বাজারের ৭২% ভেনামী চিংড়ির দখলে। বাংলাদেশে এই মাছের উৎপাদন ব্যাপকভাবে না হওয়ায় দেশটিকে স্বাদু পানির চিংড়ি (গলদা চিংড়ি) এবং বাগদা চিংড়ি রপ্তানির মাধ্যমে বাজারের ২৮% ভাগের জন্য প্রতিযোগিতা করতে হয়।

এছাড়া স্বাদুপানির ও বাগদা চিংড়ির তুলনায় ভেনামী চিংড়ির দাম অনেক কম। ফলে ভেনামী চিংড়ির দামে দামি গলদা ও বাগদা চিংড়ি রপ্তানি করায় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে বাংলাদেশি চিংড়ি ব্যবসায়ীদের।

নিবিড় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এক একর এলাকায় ১৫শ কেজি গলদা এবং বাগদা চিংড়ি উৎপাদন করা যায়। যেখানে একই জায়গায় ভেনামী চিংড়ির উৎপাদন ক্ষমতা কমপক্ষে ৫ হাজার কেজি। 

বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে ভেনামী চিংড়ি উৎপাদনের গতি বাড়লে আগামী পাঁচ বছরে চিংড়ির উৎপাদন পাঁচগুণ বৃদ্ধি পাবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী ভেনামী চিংড়ি আহরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। 

অনুষ্ঠানে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কে এইচ মাহবুবুল হক, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ, পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম উপস্থিত ছিলেন।