‘অবৈধ সম্পদে কোটিপতি’ ইউএনও, আদালতে মামলা

২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদানের পর থেকেই  ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউএনও মো. জানে আলমের বিরুদ্ধে।

সোমবার (৬ মার্চ) দুপুরে রাজশাহী জেলা স্পেশাল ট্র্যাইবুনাল ও সিনিয়র দায়রা জজ আদালতে এমন অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলাটি করেছেন আইনজীবি অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দিন বিশ্বাস।

এই আইনজীবির দাবি, বর্তমানে মো. জানে আলমের প্রায় ৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে। যা দিয়ে তিনি বিলাস বহুল বাড়ি, গাড়ি ও নামে-বেনামে জমি ক্রয় করেছেন।

মামলার সাথে এসবের ভিডিও সংযুক্ত করেছেন এই আইনজীবী।

ফৌজদারি বিশেষ ওই মামলা নম্বর ৫/২০২৩।

মামলাটি আদালতে উত্থাপন করা হলে বিচারক আব্দুর রহিম শুনানি শেষে রাজশাহী জেলা সমন্বিত দুদককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি ইউএনও এর বিরুদ্ধে রাজশাহী পরিবেশ আদালতে মামলা করা হয়।

দুর্নীতির মামলা দাখিলকারী অ্যাডভোকেট রায়হান কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আশ্রয়ন প্রকল্পের বাড়ি নির্মাণে জোরপূর্বক বিভিন্ন ইটভাটা থেকে ইট ও বালুমহালের বালু নেয়াসহ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে দায়সারা কাজ করেছেন ইউএনও। এছাড়া প্রকল্পের সব ঘর নির্মাণ সম্পন্ন না হলেও শতভাগ অগ্রগতির ভুয়া তথ্য প্রদর্শন করেছেন। বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের বিল-ভাউচার স্বাক্ষর করার জন্য ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করেছেন। টিআর-কাবিখার উন্নয়নমূলক কাজে ১০% হারে কমিশনও নিচ্ছেন। এছাড়া আদিবাসীদের জমি কেড়ে নিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করা হলেও আদিবাসীদের ঘর দেননি। টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেছেন আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘর। এছাড়া ঘুষ না পেলে অন্যায়ভাবে আইনের অপ্রয়োগ করে নির্যাতনের অভিযোগও করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জানে আলম বলেন, এ বিষয়ে কিছুই জানি না। কয়েকজন সাংবাদিকের মাধ্যমে জানতে পারলাম মামলা করেছে। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।