ঢাকার মগবাজার থেকে সাত রাস্তামুখী ফ্লাইওভারের নিচের পিলারগুলো থেকে ব্যানার-পোস্টার তুলে করা দৃষ্টিনন্দন গ্রাফিতি করা হয়েছে। সংস্কৃতি ও শিক্ষণীয় চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এতে।
কোনো পিলারে গাছ লাগাচ্ছে কিশোর, কোনোটাতে স্কুলগামী ছাত্র, কোনোটিতে লেখা হর্ন বাজাবেন না, পোস্টার না লাগাই। এছাড়া ফুল, পাখি, নৌকাসহ আবহমান বাংলার সংস্কৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে গ্রাফিতিগুলোতে।
সোমবার (১০ এপ্রিল) মগবাজারে দৃষ্টিনন্দন এই গ্রাফিতি শিল্পকার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।
উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মেয়র আতিক বলেন, “যত্রতত্র পোস্টার লাগিয়ে আমরা এ শহরের দৃশ্য দূষণ করছি। শব্দদূষণ করছি, বায়ুদূষণ করছি। শহরের দূষণ বন্ধে আমাদের সচেতন হতে হবে। শুধু সরকার, সিটি কর্পোরেশন দায়িত্ব নিলে হবে না। সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে।”
ডিএনসিসি মেয়র বলেন, “শহরের উড়াল সড়কের পিলারগুলোতে তাকালে দেখা যায়- ‘অমুক ভাই সালাম নিন, তমুক ভাই এগিয়ে চলুন, ভাই আপনি নেতা হবেন, আমরা আপনার পেছনে আছি' লেখা সংবলিত পোস্টারে ভরা। যত ধরনের তেলবাজি, পামপট্টি সব পোস্টারের মাধ্যমে করা হচ্ছে। নিচের দিকে লিখে রাখে সৌজন্যে অমুক। এসব সৌজন্যে অমুকদের বলতে চাই- এগুলো বন্ধ করুন। অন্যথায় আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো। এ জন্য জেলও হবে, জরিমানাও হবে।”
মেয়র বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন রিকশায় যারা পেইন্টিং কাজ করতেন তাদের যেন সম্পৃক্ত করি৷ তাই রিকশা পেইন্টিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিখ্যাত চিত্র শিল্পীদের এ গ্রাফিতি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। মগবাজার ফ্লাইওভারে শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে বাকি ফ্লাইওভার ও মেট্রোরেলের পিলারেও গ্রাফিতি করা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের গ্রাফিতি কার্যক্রম রয়েছে। আমরাও কিন্তু চাইলেই পারি। সবাই সচেতন হলে আমরা শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে পারবো।”
এ সময় ফ্লাইওভারের পিলারের সৌন্দর্য রক্ষায় সিসি ক্যামেরা লাগানোর ঘোষণাও দেন তিনি।