নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সবসময় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করা হয় বলে দাবি করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
তিনি বলেছেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য কমলে দেশের বাজারে পণ্যের মূল্য কমে না, বিষয়টি সত্য নয়। দেশের বাজারে পণ্যের মূল্য সময়ে সময়ে সমন্বয় করা হয়। তবে মূল্যবৃদ্ধির সময় যত দ্রুত প্রতিফলিত হয়, কমার ক্ষেত্রে তত দ্রুত প্রতিফলিত হয় না। আমদানি, উৎপাদন, পরিবেশক ও খুচরা পর্যায় পর্যন্ত মূল্য যথাযথ সমন্বয় করতে সময়ের প্রয়োজন হয়।”
সোমবার (১২ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রতনার প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদের প্রশ্নের উত্তরে টিপু মুনশি জানান, দেশে চিনি ও পেঁয়াজের বর্তমান বার্ষিক চাহিদা যথাক্রমে ২০-২২ লাখ মেট্রিক টন ও ২৫-২৭ লাখ মেট্রিক টন। চিনি ও পেঁয়াজের উৎপাদন প্রায় ২১ হাজার মেট্রিক টন ও ২৮ লাখ ১১ হাজার মেট্রিক টন। চিনির দেশীয় উৎপাদন অতি নগণ্য হওয়ায় চাহিদার প্রায় ৯৯% আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।
চিনির মূল্য বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির মূল্য গত তিন মাসে প্রতি মেট্রিক টনে প্রায় ১৬০ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। আমদানির ব্যয় নির্ধারণে ব্যবহৃত বৈদেশিক মুদ্রা ডলারের মূল্য এক বছরে প্রায় ৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরিশোধিত চিনি পরিশোধনে ব্যবহৃত কেমিক্যালের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কারণেও স্থানীয় বাজারে চিনির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাতীয় সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “মূল্য নিয়ন্ত্রণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির বাধাগুলো দূর করতে এলসি খোলায় ন্যূনতম মার্জিন রাখার বিষয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিত্যপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলারের সরবরাহ রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানানো হয়েছে।”