এইডস দিবস আসে-যায়, ঝুঁকি কমে না দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর বাসিন্দাদের

বিশ্ব এইডস দিবস আজ (১ ডিসেম্বর)। বরাবরের মতো এবারও দিবসটি পালন করার যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশে। প্রাণঘাতী এইডসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৮৮ সাল থেকে বিশ্ব এইডস দিবস পালন করা হয়ে আসছে। দিবসটিকে কেন্দ্র করে নানা উদ্যোগ চোখে পড়লেও এইডস সংক্রমণে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে থাকা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া যৌনপল্লী নিয়ে নেই তেমন কোনো উদ্যোগ। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাটিতে এইডস প্রতিরোধে বেসরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে যৎসামান্য কিছু কার্যক্রম।

গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাট দেশের সবচেয়ে বড় যৌনপল্লী। সেখানে প্রায় তিন হাজার যৌনকর্মীর বসবাস। অবাধ মেলামেশার কারণে দৌলতদিয়া পল্লীকে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, ওই পল্লীর সব যৌনকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সহজেই এইচআইভি এইডসে আক্রান্ত হতে পারেন।

এইডস প্রতিরোধে যৌনপল্লীতে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা “পায়াক্ট বাংলাদেশ”-এর দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. মজিবর রহমান জুয়েল জানান, “এইচআইভি এইডস প্রিভেনশন প্রোগ্রাম ফর ব্রোথেলস সেক্স-ওয়ার্কার অ্যান্ড দেয়ার ক্লায়েন্ট” প্রকল্পের আওতায় কাউন্সেলিং করে দৌলতদিয়া পল্লীর যৌনকর্মীদের স্বাস্থ্যসচেতন করছেন তারা।

এদিকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে এইচআইভি এইডস প্রতিরোধে পায়াক্টের পাশাপাশি কাজ করছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

দৌলতদিয়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. জুলফিকার আলী বলেন, “এইচআইভি এইডস সচেতনতা ও নিবারণ-প্রকল্পের আওতায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে নিয়মিত ‘স্যাটেলাইট ক্যাম্প’ পরিচালনা করছে।”

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসিফ মাহমুদ বলেন, “এইডসের হাত থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”