কর্মজীবী মায়েদের জন্য কর্মক্ষেত্রে সন্তানকে বুকের দুধ পান করানোর অনুকূল পরিবেশ গড়তে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে ঢাকার বিআইসিসি মিলনায়তনে এক সেমিনারে এমন আহ্বান জানান বক্তারা।
কর্মক্ষেত্রে স্তন্যদানের অনুকূল পরিবেশ তৈরি ও মায়ের বুকের দুধ পানের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে প্রচারণায় গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে এ সেমিনার আয়োজন করে ইউনিসেফ।
সেমিনারে বলা হয়, শিশুদের জন্মের পর প্রথম ছয় মাস তার সব পুষ্টির চাহিদা মেটানোর সর্বোত্তম উৎস মায়ের বুকের দুধ। কিন্তু কর্মজীবী মায়েরা অনেক সময় শিশুকে বুকের দুধ পান করাতে পারেন না। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠানে অনুকূল পরিবেশও থাকে না।
তথ্যে দেখা গেছে, পোশাক কারখানায় কাজ করা প্রায় ৭০-৮০% মা সন্তান জন্ম দেওয়ার পর আর কাজে ফিরে আসছেন না।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, দেশের প্রতিটি খাতেই শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র (ডে-কেয়ার) প্রতিষ্ঠায় সবাইকে কাজ করতে হবে।
ইউনিসেফের চিফ নিউট্রিশন কর্মকর্তা দীপিকা মেহরিশ শর্মা বলেন, জন্মের পর ছয় মাস পর্যন্ত শিশুর মায়ের বুকের পান করানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে মায়েরা প্রসব পরবর্তী বিষণ্ণতা থেকে যেমন মুক্তি পান, তেমনই শিশুমৃত্যুর হারও কমে যায়। ফলে শিশু যাতে মায়ের বুকের দুধ পায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এই বিষয়ে কর্মজীবী মায়েরা পিছিয়ে না পড়েন সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ইউনিসেফের কর্পোরেট অ্যালায়েন্স বিশেষজ্ঞ ড. বেদপ্রকাশ গৌতম বলেন, শিশুর মায়ের বুকের দুধ না পাওয়া বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। এই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
নর্দার্ন তোসরিফা নামের প্রতিষ্ঠানের সিএসআর অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি প্রকল্পের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ তাসনিম রেজা জাকি বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে। এখানে মায়েরা সন্তানকে রাখতে পারেন। বিরতি নিয়ে সন্তানকে স্তন্যদান করাতে পারেন। এটি মা ও শিশু দুইজনের স্বাস্থ্যের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মক্ষেত্রে মাতৃত্ব সুরক্ষা ও স্তন্যপান সহায়তার বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চ্যালেঞ্জ উত্তরণে দেশেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় (এমওএইচএফডব্লিউ) এবং বাংলাদেশে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় (এমওএলই)।
এই নিয়ম অনুযায়ী, কর্মজীবী মায়েরা শিশুর লালনপালন ও কাজ দুটোতেই ভারসাম্য রাখতে পারবেন।
“মায়ের কাজ” নামে পরিচিত এই উদ্যোগের আওতায় বৃহত্তম ব্যবসাসহ সব খাতেই কর্মজীবী মায়ের জন্য শিশুর লালনপালন, স্তন্যদানের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।
এর আওতায় একটি কারখানায় ৪০ জন নারী কাজ করলে সেখানে একটি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র রাখতে হবে।
এতে আইএলও এর বিডব্লিউবির টিম লিডার মারুফ খান বলেন, “মায়েদের জন্য শিশু যত্ন নিশ্চিত করতে আমরা আরও উদ্যোগ নিচ্ছি। সরকার, নিয়োগকর্তা এবং শ্রমিক প্রতিনিধিরা এই বিষয়ে আরও যত্নবান হলে এটি আরও উন্নত হবে।”