যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুতে চিকিৎসককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া দলটির নোংরা ও সন্ত্রাসী চিন্তার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
বুধবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে জাতীয় শোক দিবসের এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাঈদীর মৃত্যু হয়। তিনি হৃদরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক চৌধুরী মেশকাত আহমেদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলে ছিলেন এস এম মোস্তফা জামান। গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এস এম মোস্তফা জামান। গত ২৬ বছর ধরে তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত আছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “চিকিৎসক এস এম মোস্তফা জামান গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে আমার কাছে এসেছিলেন। তিনি সমস্ত ঘটনা বলেছেন। এই চিকিৎসককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এটা আমার কাছে আশ্চর্য লাগে। আমি মনে করি, তারা (জামায়াত) যে নোংরা চিন্তা করে, তারা যে সবসময় সন্ত্রাসী চিন্তা করে, তারা যে সবসময় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চিন্তা করে, এটি তারই একটি প্রতিফলন। হয়তো এ হুমকির মধ্য দিয়েই জামায়াত তা জানান দিয়েছে।”
সাঈদীর মৃত্যুকে ঘিরে দেশের অনেক জায়গায় সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হয় শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে চাইলে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে পুলিশের। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে গায়েবানা জানাজা পড়ার চেষ্টা করলেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এছাড়া চট্টগ্রামে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানায় পুলিশ।
১৭ আগস্ট সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান বলেন, “বাংলাদেশকে জঙ্গি-রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করার জন্য জঙ্গির ‘উদ্যান’ দেখেছেন। বাংলা ভাই ও শাইখ আব্দুর রহমানের মতো অনেক জঙ্গি দেখেছেন। তৎকালীন সরকার (বিএনপি) তখন বলত এগুলো মিডিয়ার সৃষ্টি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আপনারাই দেখেছেন সত্যিকারের জঙ্গির উত্থান। সেভাবেই ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলার ঘটনা ঘটায় জঙ্গিরা। এ হামলার মধ্য দিয়ে তারা জানান দিয়েছে যে দেশে জঙ্গি রয়েছে।”
মন্ত্রী বলেন, “এখন আমি এটুকু বলতে পারি যে, জঙ্গি আমরা একবারে নির্মূল করতে পারিনি, কিন্তু জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জঙ্গিগোষ্ঠীর কিছু কিছু ঘুমন্ত সেল এখনো রয়ে গেছে। তারা আত্মপ্রকাশ করার চেষ্টাও করছে। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা অত্যন্ত দক্ষ। তারা জঙ্গিবাদকে নিষ্ক্রিয় করছেন এবং যথাসময়ে জঙ্গিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।”