নদীর পাড়ে বস্তার ভেতরে জীবিত নবজাতক

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাঁকড়ি নদীর পাড়ে ফেলে যাওয়া বস্তার ভেতর থেকে জীবিত এক নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে শিশুটিকে রামচন্দ্রপুর গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন সবুজের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

শুক্রবার (০৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কাশিনগর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর কলাবাগান বাজার এলাকা থেকে নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, কে-বা কারা বস্তার মধ্যে শিশুটিকে রেখে নদীর পাড়ে ফেলে যায়। স্থানীয় লোকজন বস্তাটি খুলে ভেতরে কম্বল মোড়ানো অবস্থায় নবজাতককে দেখেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) নির্দেশে শিশুটিকে রামচন্দ্রপুর গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন সবুজের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা নূর হোসাইন রাজিব বলেন, ‌“শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নদীর পাড়ে কচুর ফুল তুলতে যান স্থানীয় কৃষক হানিফ মিয়া। তখন তিনি বস্তাটি দেখতে পান। বস্তাটি নড়তে দেখে স্থানীয়দের জানালে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।”

তিনি বলেন, “শিশুটিকে উদ্ধারের পর স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান স্থানীয়রা। চিকিৎসা শেষে রামচন্দ্রপুর গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন সবুজ দম্পতির জিম্মায় শিশুটিকে রাখা হয়।”

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, “আপাতত নবজাতককে সবুজ নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে রাখা হয়েছে। তার স্ত্রী সদ্য মা হয়েছেন। তাই শিশুটিকে বুকের দুধ খাওয়ার জন্য সবুজ ও তার স্ত্রীর হেফাজতে রাখা হয়েছে। শনিবার এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সমাজসেবা অধিদপ্তর।”

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর হোসেন বলেন, “নবজাতকের আনুমানিক বয়স তিন থেকে চার দিন। তাই মায়ের দুধ খাওয়ানোর জন্য আপাতত সবুজ ও তার স্ত্রীর হেফাজতে রাখা হয়েছে। শনিবার আমরা তার বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেবো।”