ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার কারণে ইলিশের দাম বেশি, বললেন মন্ত্রী

ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার কারণে ইলিশের দাম বেশি বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তবে, সমস্যাটি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী নয় মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রী বলেছেন, “আমাদের বাজার ব্যবস্থায় সমস্যা রয়েছে। ভোক্তা অধিকার, প্রতিযোগিতা কমিশন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।”

বুধবার (১১ অক্টোবর) সচিবালয়ে মা ইলিশ সংরক্ষণ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তিনি।

প্রধান প্রজনন মৌসুমে নিরাপদ প্রজননের জন্য ১২ অক্টোবর থেকে সারাদেশে বন্ধ হচ্ছে ইলিশ ধরা। আগামী ২২ দিন অর্থাৎ ২ নভেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত দেশের কোনো নদনদীতে ইলিশ ধরা যাবে না। নিষেধাজ্ঞা না মানলে আইনে এক থেকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা থাকবে উপকূলীয় ইলিশ প্রজনন ক্ষেত্রের সাত হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায়। মা ইলিশ রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

এই সময় জেলেদের আর্থিক সহায়তা করা হবে বলে জানান প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই সময়ে অতিদরিদ্র জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান ও ভিজিএফের ব্যবস্থা করা হবে। অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের কারণে ছয়টি ইলিশ অভয়াশ্রমে ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে।”

প্রসঙ্গত, দেশে গত ১২ বছরে ইলিশ আহরণ বেড়েছে দ্বিগুণ। ২০০৮-০৯ সালে ইলিশ আহরণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৯৮ হাজার মেট্রিক টন। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টনে। এ মৌসুমে ৬ লাখ টন ছাড়িয়ে যাওয়া হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আহরণ বাড়লেও বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। এর কারণে হিসেবে বিক্রেতারা বলছেন, “সরবরাহ বেশ কম।” তারা জানান, গত বছরের চেয়ে এ মৌসুমে ইলিশের দাম বেড়েছে অন্তত ৫০%।

সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বাজারে এখন এক কেজির একটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১,৩০০ থেকে ১,৫০০ টাকায়। শুধু ইলিশের দামই চড়া নয়, এর প্রভাব পড়েছে অন্য মাছেও। ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় এখন অন্য মাছের দাম বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।