শিশুদের আনন্দে শতগুণ বাড়ে দুর্গাপূজার আমেজ

শরতের আকাশ আর ঢাকের ধ্বনি জানান দেয়, পূজা এসে গেছে। শুক্রবার (২০ অক্টোবর) ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। প্রতিবারের মতো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান এ উৎসবটি পালিত হচ্ছে সাড়ম্বরে।

ব্যস্ত নগরী ঢাকার মানুষ উৎসব এলে মাতে আনন্দে। সম্প্রীতি আর উৎসবের জন্য ঢাকার সুখ্যাতি বহু পুরোনো। শহরে শারদীয় দুর্গোৎসবের মণ্ডপগুলো সেই সাক্ষ্য দেয়। ঢাক আর উলুধ্বনি, মাঝে মাঝে ভেসে আসা হালকা হিমেল হাওয়া যেন বিলিয়ে দেয় আনন্দ। উৎসবের আনন্দে শিশুদের চেয়ে আর কে বেশি মাতে? ব্যতিক্রম নয় দুর্গাপূজাও।

মণ্ডপের বাইরে এটা-সেটার দোকান। ভেতরে দুর্গা মায়ের আরাধনা। ছোট-বড় সব মণ্ডপেই পূজার ভাবগাম্ভীর্য ছাপিয়ে চোখে পড়ে শিশুদের আনন্দ। তাদের উপস্থিতি উৎসবে যোগ করে নতুন মত্রা। রঙ-বেরঙের নতুন পোশাক পরে তাদের ছোটাছুটি এ মহোৎসবকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত ও আনন্দময়।

রায়ের বাজারের শ্রী শ্রী মহাপ্রভুর আখড়া মন্দিরে দেখা হয় ১০ বছর বয়সী লোকনাথ ঘোষের সঙ্গে। নতুন পোশাকে সেজে সে আর সমবয়সী কয়েকজন মন্দির মাতিয়ে রেখেছে। মহাব্যস্ত লোকনাথ হৈ-চৈয়ের এক ফাঁকে জানায়, “দুর্গাপূজা আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। অনেকগুলো নতুন জামা কিনেছি। দশমীর দিন সবচেয়ে সুন্দর জামাটা পরব। সকাল থেকে এখানে আছি। পুজো করেছি। রাতে খুব নাচ-গান করব।”

শিশুদের নির্মল হাসির শব্দে ভরপুর ঢাকার পূজা মণ্ডপগুলো

কথা হয় স্কুলছাত্র সৌরভ দাশ আর তার চাচাতো ভাই দীপ্ত দাশের সঙ্গে। ঠাকুরমায়ের সঙ্গে তারা এসেছে পূজা করতে। আনন্দে আটখানা তাদের চোখ দুটি জানান দিচ্ছে এই উৎসবের আমেজ।

সৌরভের কথায়, “এখানে রাত পর্যন্ত থাকব। আজ খুব মজা করব। স্কুল ছুটি এখন, পড়াশোনার চাপ নেই। প্রতিবারই দুর্গাপূজায় আমরা খুব আনন্দ করি। ”

দীপ্ত বলে, “আমি তিনটি নতুন জামা কিনেছি। দশমীর দিন পাঞ্জাবি পরব। বাবা-মায়ের সাথে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যাব।”

রায়ের বাজারের বহু পুরোনো শ্রী শ্রী মহাপ্রভুর আখড়া মন্দির মণ্ডপের সামনে কথা হয় রাজলক্ষ্মীর সঙ্গে। তার পরনে লাল জামা আর চোখেমুখে আনন্দের ঝলক। রাজলক্ষী বলে, “আমি আমার বাবা আর বন্ধুদের সাথে এসেছি। আমি এখন আরতি করব সবার সাথে। দুর্গাপূজার সময়টা আমার সবচেয়ে প্রিয়। আগামীকাল উপোস করব। ২৯ তারিখের আগ পর্যন্ত লেখাপড়া থেকে ছুটি। এখন শুধু মজা করব।”

অবলীলায় ঢাক বাজাচ্ছে বিষ্ণু আর তার সাথে তাল মিলিয়ে নাচছে বেশকিছু শিশু। এমন দৃশ্য চোখে পড়ে শ্রী শ্রী জিগাতলা শিব মন্দির প্রাঙ্গনে। অনেকে বসে দেখছে তাদের নাচ। ঢাক বাজানোয় মনোযোগী বিষ্ণুর হাত দুটো বিশ্রাম নিলে কথা হয় তার সঙ্গে।

“অনেক আগে থেকেই ঢাক বাজাই। আনন্দ পাই। পূজার সময় অনেক মজা। সন্ধ্যা হলেই সবাই আরতি নিতে আসবে। পূজার এই আমেজটাই অন্যরকম। আমার খুব পছন্দের সময় শারদীয় দুর্গাপূজা।”

পূজার এই আমেজ কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদেরই নয়, ছুঁয়ে যায় সবাইকে। উৎসাহভরা চোখে সানন্দে জিগাতলা মণ্ডপে ছোট্ট মনিরার ঘোরাঘুরি তাইই জানান দেয়। তবে মনটাও একটু খারাপ, কারণ, “পূজা বছরে মাত্র একবার আসে!”

মনিরার কথায়, “দুর্গাপূজা একটি বড় উৎসব। ভাই আর মায়ের সঙ্গে এখানে এসেছি। এখানে আমার নানুর বাসা। প্রতি বছরই এখানে পূজা হয়। মঙ্গলবার আমাদের পূজা শেষ হয়ে যাবে। পুজার শেষদিন আমার খুব খারাপ লাগে। পূজার এ আনন্দ বছর ঘুরে একবার আসে। তাই অনেক অপেক্ষা করতে হয়।”