বাসে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ ও যানজটের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিএনপির ডাকা নবম দফায় ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ। তবে যান চলাচলে এই কর্মসূচির প্রভাব পড়েনি। দূরপাল্লার গণপরিবহন চলাচলও ছিল প্রায় স্বাভাবিক।
সোমবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেন।
এদিন সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর রোড, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, জাহাঙ্গীর গেট, মহাখালী ওয়্যারলেস, গুলশান, তেজগাঁও, পল্টন, মতিঝিল, কাকরাইল, প্রেসক্লাব, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন সড়ক ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
সকাল থেকেই ফার্মগেট, বিজয় সরণি, মহাখালী, মতিঝিল এলাকায় যানজট ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজট আরও বাড়তে থাকে। দুপুর আড়াইটার দিকে গুলিস্তানে বাসে অগ্নিসংযোগ ও পল্টন মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ফলে সন্ধ্যার দিকে গুলিস্তান এলাকায় যান চলাচল কমে আসে।
এদিকে ফুলবাড়িয়া, সায়েদাবাদ ও মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দূরপাল্লার বাস চলাচল অব্যাহত রয়েছে। তবে যাত্রী সংকট থাকায় বাস সময়মতো টার্মিনাল ছেড়ে যাচ্ছে না। এছাড়া রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের চাপ ছিল অন্যান্য দিনের মতোই।
সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে অবরোধের সমর্থনে উত্তরায় বিক্ষোভ মিছিল করে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল। উত্তরায় ৪ নম্বর সেক্টর পার্কের উত্তর পাশ থেকে শুরু হয়ে ঢাকা গাজীপুর প্রধান সড়কে এসে মিছিলটি শেষ হয়।
এছাড়াও রাজধানীর আসাদগেটে ঝটিকা মিছিল করে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। এতে নেতৃত্ব দেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াছিন আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান। একই সময় রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড় থেকে দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। মিছিলে নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
এদিকে, গত কয়েক সপ্তাহের মতো যথারীতি মঙ্গলবার বাদ রেখে বুধ ও বৃহস্পতিবার (৬ ও ৭ ডিসেম্বর) দেশব্যাপী ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক অবরোধ ডেকেছে বিএনপি।