রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য করা ব্যক্তি আদালতে ক্ষমা চেয়েছেন।
বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান রাজশাহীর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয় আদালত) মো. আবু সাঈদের আদালতে হাজির হন ওই ব্যক্তি। এসময় তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেন।
আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেন মাহাবুর রহমান মাহাম নামে ওই ব্যক্তি। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করতে আদালত মাহামকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। মাহাম বলেছেন, “আর কোনো দিন ফেসবুকে এগুলো করব না।”
মাহাম সাংবাদিকদের বলেন, “ভুল মানুষেরই হয়। আমি ক্ষমা চেয়েছি। আমি তো জানতাম না যে, এটা নির্বাচনি আইন ভঙ্গের মধ্যে পড়ে। আবেগের বশে বলে ফেলেছিলাম। আমি বলেছি, মেয়ের জাতি হচ্ছে মা জাতি। আমার মা আছে, বোন আছে। এভাবে বলা ঠিক হয়নি। অনেকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন আদালত। আমি বলেছি, আর কোনো দিন ফেসবুকে আমি এগুলো করব না।”
মাহাম রাজশাহী জেলা সৈনিক লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে রয়েছেন। গত শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক ভিডিওতে মাহিকে “জুতাপেটা করাসহ” আপত্তিকর মন্তব্য করেন মাহাম। কিছুক্ষণ পরই সেই ভিডিওসহ পোস্টটি সরিয়ে নেন তিনি। পরে তাকে কারণ দর্শানোর চিঠি (শোকজ) দেন নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. আবু সাঈদ।
অনুসন্ধান কমিটির পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছিল, “ফেসবুকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহিয়া মাহির (শারমিন আক্তার নিপা) সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর ভিডিও প্রকাশ করেন মাহাবুর রহমান। গণমাধ্যম ও ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি অনুসন্ধান কমিটির নজরে আসে। ভিডিওতে ভবিষ্যতে নির্বাচনি প্রচারের সময় মাহিয়া মাহিকে জুতাপেটা, প্রচারণায় বাধাসহ যেকোনো ধরনের ক্ষতি করা হবে বলে জানানো হয়। ওই বক্তব্যের মাধ্যমে মাহাবুর রহমান সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০০৮-এর ১১(ক) বিধি লঙ্ঘন করেছেন, যা নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম হিসেবে গণ্য হবে।”
এছাড়া ঘটনার পরদিন মাহিয়া মাহির পক্ষে তানোর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার ফুফাতো ভাই মো. জাহেদুল ইসলাম।
এ বিষয়ে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, “তদন্তের অনুমতি চেয়ে অভিযোগটি আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত অনুমতি দিলে তদন্ত করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কার্যক্রম ও এই অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। আলাদাভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি রাজশাহী-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে ১% ভোটারের স্বাক্ষরের গরমিল থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিলের পর প্রার্থিতা ফিরে পান তিনি।
রাজশাহীর এই আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী আছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহিয়া মাহি (ট্রাক), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির নুরুন্নেসা (আম), জাতীয় পার্টির শামসুদ্দিন (লাঙ্গল), তৃণমূল বিএনপির জামাল খান (সোনালী আঁশ), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের বশির আহমেদ (ছড়ি), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের আল সামাদ (টেলিভিশন), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সামসুজ্জোহা বাবু (নোঙ্গর), স্বতন্ত্র মো. গোলাম রাব্বানী (কাঁচি), স্বতন্ত্র মো. আখতারুজ্জামান (ঈগল) ও স্বতন্ত্র শাহনেওয়াজ আয়েশা জাহান (বেলুন) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।