ধানমন্ডির পার্লারে গোপন ক্যামেরা, তিনজন কারাগারে

“উইমেনস ওয়ার্ল্ড” নামের একটি বিউটি পার্লারের ধানমন্ডি শাখায় গোপনে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ-সংরক্ষণের অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) ভুক্তভোগী এক নারীর মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডে অবস্থিত ওই পার্লারটিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে পুলিশ।

গতকাল বুধবার ধানমন্ডি মডেল থানায় পুলিশের করা পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গ্রেপ্তার তিন ব্যক্তি হলেন- পার্লারের মহাব্যবস্থাপক তসলিম আরিফ ওরফে ইলিয়াস (৫২), প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক ইমাদুল হাসান (৫৩) ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপক এম এইচ জুয়েল খন্দকার (৩৩)।

মামলার অপর দুই আসামি হলেন- পার্লারের মালিক তাসলিমা চৌধুরী কনা আলম (৫৭) ও ব্রাঞ্চ মালিক ফারনাজ আলম (৩২)। তারা পলাতক রয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী এক নারীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিউটি পার্লারটিতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে আটটি সিসি ক্যামেরা ও ক্যামেরার ডিভিআর জব্দ করে পুলিশ। এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানার উপ-পরিদর্শক মো. একরামুল হক বাদী হয়ে পার্লারের দুই মালিকসহ পাঁচজনের নামে মামলা দায়ের করেন। মামলায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ এর ৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

এ বিষয়ে পুলিশের ধানমন্ডি অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মো. আবু তালেব দৈনিক প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণকে বলেন, “পার্লারটিতে সেবা নেওয়া অনেক নারীর ভিডিও গোপন ক্যামেরার ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডারে (ডিভিআর) পাওয়া গেছে। বেআইনি পন্থায় এসব ভিডিও ধারণ, সংরক্ষণ করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “গ্রেপ্তার তিন ব্যক্তি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ছয় মাস আগে পার্লারে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কোনো ফুটেজ অপব্যবহার হয়েছে কি-না, তা জানতে পুলিশি তদন্ত করছে।”

পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

ধানমন্ডি মডেল থানার পরিদর্শক মো. শাহজাহান বলেন, “ভুক্তভোগী এক নারী মৌখিক অভিযোগ করেছিলেন। তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। পুলিশ পার্লারটিতে অভিযান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা পায়। এ কারণে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।”