সুন্দরবনে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বেড়েছে। এরইমধ্যে অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে শুরু হয়েছে স্মার্ট পেট্রোলিং। এখন বিষ দিয়ে মাছ শিকার বন্ধে ড্রোন দিয়ে চলছে নজরদারি।
গত ৬ বছরে স্মার্ট পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে সুন্দরবন থেকে ২,৮১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ে বিপুল পরিমাণ নৌযান ও নানা সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারিতে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করার দুটি ঘটনা চিহ্নিত করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়। বাঘ গণনায় এখন ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মতো ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রয়োগ করা হচ্ছে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বলেন, “বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও মনিটরিংয়ে এখন ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রচলন বাড়ছে। নদী ও খাল নজরদারিতে ড্রোন ব্যবস্থার প্রচলন হয়েছে। এর সফলতাও পাওয়া গেছে। স্মার্ট পেট্রোলিং ব্যবস্থা আগের চেয়েও জোরদার করা হয়েছে। এসব কাজে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় গোপন রাখা হচ্ছে। এমন ২৮টি ঘটনায় ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত স্মার্ট পেট্রোলিংয়ের আওতায় ২,৮১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ খুলনার মৎস্য বিশেষজ্ঞ মফিজুর রহমান বলেন, “বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য হলো মানুষ ও ধরিত্রীর বন্ধন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ডিজিটাল উদ্ভাবন। এবারের এই প্রতিপাদ্য অনেক আগে থেকেই সুন্দরবন এলাকায় প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এর আওতায় ড্রোন দিয়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যার ফলে সুন্দরবনের গহিনের খালে নজরদারি বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।”
এদিকে, রবিবার (৩ মার্চ) সকালে বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস উপলক্ষে মংলায় “ধরিত্রী রক্ষায় আমরা” (ধরা), “ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ”, “সুন্দরবন রক্ষায় আমরা” ও “পশুর রিভার ওয়াটারকিপার”-এর আয়োজনে বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবসের সমাবেশ হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “বাংলাদেশে বন্যপ্রাণীর অবৈধ বাণিজ্য দমনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো বন্যপ্রাণী অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনায় জটিলতা। ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বন্যপ্রাণীর অবৈধ বাণিজ্যের প্রায় ৩০% ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। এর মধ্যে ২০% কম ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রবিবার “পৃথিবীর অস্তিত্বের জন্য প্রাণীকূল বাঁচাই” প্রতিপাদ্যে বাগেরহাটের মোংলার চালনা বন্দর মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহযোগিতায় বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস উপলক্ষে সুন্দরবনের মহাবিপন্ন, বিপন্ন ও সংকটাপন্ন বন্যপ্রাণী সুরক্ষা এবং বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনের দাবিতে সমাবেশ, র্যালি, মানববন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। র্যালি, সমাবেশ ও মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন “সুন্দরবন রক্ষায় আমরা”-এর সমন্বয়কারী মো. নূর আলম শেখ।
এসময় বক্তব্য দেন চালনা বন্দর মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকন উদ্দিন, শিক্ষক শরিফুল ইসলাম, ধরা’র নেতা আব্দুর রশিদ হাওলাদার, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’র কমলা সরকার, পরিবেশকর্মী মো. আলম গাজী, হাছিব সরদার, পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের স্বেচ্ছাসেবক শেখ রাসেল, পরিবেশকর্মী ইদ্রিস ইমন প্রমুখ।