অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি: ধানমন্ডির কেয়ারি ক্রিসেন্ট টাওয়ার সিলগালা

অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থাকায় রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডের  ১১তলা বিশিষ্ট “কেয়ারি ক্রিসেন্ট টাওয়ার” সিলগালা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।

সোমবার (৪ মার্চ) দুপুর সাতমসজিদ রোডে রেস্টুরেন্টগুলোতে অনিয়ম পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় এ ব্যবস্থা নেন ডিএসসিসি’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর আলম।

১১তলা বিশিষ্ট কেয়ারি ক্রিসেন্ট টাওয়ারে ১০টি রেস্টুরেন্ট রযেছে। তবে অভিযানের খবরে সেগুলো বন্ধ রাখা হয়। তবে এ সময় একটি রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করতে পারেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।ওই রেস্টুরেন্টে ঘুরে রান্না ঘরে অনিরাপদভাবে রাখা গ্যাস সিলিন্ডার দেখতে পান। এছাড়া ভবনটিতে জরুরি বহির্গমন সিঁড়ির মুখে অনিরাপদভাবে গ্যাস সিলিন্ডার পড়ে থাকতে দেখা যায়। সিঁড়িটি যথাযথভাবে না বানানোয় ও নোংরা থাকায় নামতে গিয়ে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান সেখানে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এছাড়া ছাদে উঠার দরজা বন্ধ থাকায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ভবনে উপস্থিত লোকদের যাওয়ার উপায় নেই বলেও জানান ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা।

এছাড়া ভবনের ১০ ও ১১তলায় অবস্থিত দুটি ভিসা প্রসেসিং অফিসের ভেতরের নকশা, গ্লাস ও কাঠ দিয়ে করা রুমগুলোকে আগুন লাগার জন্য অধিক ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় তিনি ১১তলার ভিসা প্রসেসিং অফিসের তিনজনকে আটক করার জন্য উপস্থিত পুলিশকে আদেশ দেন।

এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, '“ভিযানে আমাদের সঙ্গে থাকা ফায়ার সার্ভিস বাহিনী বলেছে এই ভবনে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নেই। যেখানে-সেখানে গ্যাস সিলিন্ডার রাখা। রেস্টুরেন্টগুলোও সিঁড়িতেও বসার চেয়ার রেখে দিয়েছে৷ আমরা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে কথা বলেছি। ভবনটি সিলগালা করার নির্দেশ দিয়েছে।”

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ হতে ভবনটি অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ এমন একটি ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, সাত মসজিদ সড়কের “গাউসিয়া টুইন পিক” ভবনে অভিযান চালিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। অভিযানে অনুমোদনহীন ও নকশা বহির্ভূতভাবে নির্মাণ করা ১২টি রেস্টুরেন্ট সিলগালা করা হয়। একই সঙ্গে জরিমানা করা হয়েছে একটি রেস্টুরেন্টকে।

এ সময় ভবনটির রুফটপ রেস্টুরেন্ট ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজউকের তাজিনা সারোয়ার।

এর আগে, রবিবার রাতে ঢাকায় বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে অন্তত ৩৫ জনকে আটক করে পুলিশ। পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা বা যথাযথ অনুমোদন না থাকার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। এদিন উত্তরা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ধানমন্ডি, খিলগাঁও এবং পুরান ঢাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

উল্লেখ্য, ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে আগুন লাগে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। ১২ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন, যারা শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ভবনটি থেকে কমপক্ষে ৭০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজনকে।

অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির পাশাপাশি বিনা অনুমোদনে ভবনটিতে আটটি রেস্টুরেন্ট চলছিল। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে সেখানে খেতে ভিড় করেছিলেন নগরের বাসিন্দারা। কেউ গিয়েছিলেন সন্তানদের নিয়ে, কেউ গিয়েছিলেন স্বজনদের নিয়ে, কেউ গিয়েছিলেন বন্ধুদের সঙ্গে।