ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধারকাজের জন্য পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী আছে দেশে?

ক্রমবর্ধমান নগরায়ন এবং নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণ হচ্ছে সর্বত্র। এসবের কারণে উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প হলে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই বাংলাদেশের।

ভূকম্পন পরবর্তী তাৎক্ষণিক কাজ হলো সুসংগঠিত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম, যার জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষিত জনবল।

বহুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে, দেশে দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য ৬২ হাজার স্বেচ্ছাসেবীকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। যারা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশনায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চালাবে। কিন্তু প্রায় এক যুগ পেরিয়ে গেলেও সেই কর্মীবাহিনী প্রস্তুতের কাজ বাস্তবায়িত হয়নি।

২০১৭ সালে এক ঘোষণায় যদিও এই কর্মীবাহিনী প্রস্তুত বলে জানিয়েছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুল হাসান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ভবিষ্যতে ভূমিকম্প পরবর্তী ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের জন্য ৫০ হাজার স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুত আছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, শহরের ছোট এলাকায় ঘনবসতি ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীদের জন্য ঢাকার আশেপাশে একটি ভলান্টিয়ার হাব স্থাপনের ওপর জোর দেন তিনি। যাতে বড় ভূমিকম্প হলে তারা সুসংগঠিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।

“জনসংখ্যার দিকে দিয়ে আমরা পৃথিবীতে সপ্তম, অথচ আয়তনের দিক থেকে ৯৪তম।”

মানবাধিকারকর্মী মোশতাক হুসেইন সাম্প্রতিককালে নেপাল ও পাকিস্তানের ভূমিকম্পের পরবর্তী উদ্ধারকাজ দেখেছেন খুব কাছ থেকে। তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, বাংলাদেশের ভূমিকম্প প্রস্তুতি খুবই দুর্বল। এ কারণে শহরের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রযুক্তি সংযোজনের দাবি জানান তিনি।

শহরের স্বেচ্ছাসেবীদের বিনামূল্যে বিভিন্ন কোর্স করায় ফায়ার সার্ভিস। পড়াশোনার পাশাপাশি সেখানে থাকে উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা, অগ্নি নিরাপত্তা এবং সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রশিক্ষণ।

এই প্রশিক্ষণ কম্প্রিহেনসিভ ডিজঅ্যাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের একটি অংশ। এতে সহায়তা দেয় বাংলাদেশ সরকার এবং ইউএনডিপি। ২০১১ সাল থেকে প্রথম পাঁচ-ছয় বছরে এর আওতায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন নয়টি শহরের ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবী। ২০২০ সালের মধ্যে ৬২ হাজার স্বেচ্ছাসেবীকে এর আওতায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল।

এই কর্মসূচিতে প্রশিক্ষণ নিতে হলে একজন স্বেচ্ছাসেবীকে অবশ্যই এসএসসি পাস হতে হবে। বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৪০-এর মধ্যে। প্রশিক্ষণের সনদ পেতে একটি পরীক্ষায় পাস করতে হবে তাদের।

২০০৪ সালের এক জরিপে দেখা যায়, রিখটার স্কেলে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়বে।