ভারত মহাসাগরে জলদস্যুর কবলে পড়া বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ “এমভি আবদুল্লাহ” সোমালিয়ার উপকূলে নেওয়ার এক দিনের মাথায় কাছাকাছি আরেক এলাকায় সরিয়ে নিয়েছে দস্যুরা।
শুক্রবার (১৫ মার্চ) জাহাজের প্রধান কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন আতিক উল্লাহ খান ইমেইলের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টার দিকে প্রথমে সোমালিয়ার গ্যারাকাদ উপকূল থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটি নোঙর করে দস্যুরা। এরপর সন্ধ্যার দিকে উপকূল থেকে সাত নটিক্যাল মাইল দূরে নোঙর করে রাখে। শুক্রবার জাহাজটি আবারও নোঙর তুলে কাছাকাছি আরেক এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, দস্যুরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে জাহাজের অবস্থান পরিবর্তন করছে।
এ বিষয়ে জাহাজটির মালিকপক্ষ কবির গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, তারা জাহাজের অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। জাহাজটি সোমালিয়া উপকূলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নাবিকেরা সুস্থ আছেন।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমালি জলদস্যুদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো যোগাযোগ করা হয়নি বলে জানিয়েছে জাহাজের মালিকপক্ষ। ১৩ বছর আগে একই কোম্পানির আরও একটি জাহাজ অপহরণ করেছিল সোমালি জলদস্যুরা। “এমভি জাহান মণি” নামের ওই জাহাজে ২৫ জন নাবিক এবং তাদের একজনের স্ত্রী ছিলেন।
অনেক দেন-দরবার ও দরকষাকষি শেষে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দিয়ে ১০০ দিন পর তাদেরকে মুক্ত করে দেশে আনা হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে, জলদস্যুরা এবারও বড় অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করতে পারে। সেজন্য প্রস্তুতিও গ্রহণ করছে জাহাজের মালিকপক্ষ।