অবন্তিকার মৃত্যু: কুমিল্লার বাড়িতে তদন্ত কমিটি, কথা বলেছে মায়ের সঙ্গে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির সদস্যরা তার মায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন।

শুক্রবার (২২ মার্চ) সকালে কুমিল্লা শহরে বাগিচাগাঁওয়ের অরনিকা পার্কে অবন্তিকাদের বাড়িতে যান তদন্ত কমিটির সদস্যরা। সেখানে অবন্তিকার মা তাহমিনা শবনমের সঙ্গে কথা বলেন তারা।

কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবন্তিকার মায়ের সঙ্গে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা কথা বলেন। পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তারা। তারা কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় গিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলেন।

অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন বলেন, “আমরা ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছি। অবন্তিকার মায়ের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে আরও জানার চেষ্টা করেছি।”

অবন্তিকার মা তাহমিনা শবনম বলেন, “তদন্ত দল ঢাকা থেকে আমার কাছে এসেছেন। উনারা তথ্য নিয়েছেন। আমি উনাদের সব বলেছি। উনারা আমার কথা শুনেছেন এবং তা লিখেও নিয়েছেন। উনারা বলেছেন ন্যায় বিচার পাব।”

গত শুক্রবার (১৫ মার্চ) রাত ১০টার দিকে কুমিল্লা শহরের নিজ বাসা থেকে জবির আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার লাশ উদ্ধার করা হয়।

মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিজের এমন মৃত্যুর জন্য সহপাঠী আম্মান সিদ্দিকী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে দায়ী করেন অবন্তিকা। আম্মান তাকে অনলাইন ও অফলাইনে হুমকি দিতেন। এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টরকে অভিযোগ দেওয়ার পর তিনিও হুমকি-ধমকি দিয়েছেন- আত্মহত্যার আগে এমন অভিযোগের কথা লিখে গেছেন অবন্তিকা। এ ঘটনায় শুক্রবার রাত থেকেই বিক্ষোভ শুরু করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অবন্তিকার সহপাঠী ও বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

পর দিন সকালে আম্মানকে বহিষ্কার ও দ্বীন ইসলামকে সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন দ্বীন ইসলাম।

এদিন রাতে আম্মান ও দ্বীনকে আসামি করে কুমিল্লা কোতয়ালি থানায় মামলা করেন অবন্তিকার মা তাহমিনা শবনম। এতে দুজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়। রাতেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

পরে রবিবার রাতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছ থেকে দুইজনকে কুমিল্লায় নিয়ে আসেন। সোমবার তাদের আদালতে তোলা হলে জামিনের আবেদন নাকচ করে আম্মানের দুদিনের ও দ্বীন ইসলামের জন্য একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।