কৃষকের কাছ থেকে পাইকারিভাবে পিস হিসেবে কিনলেও খুচরা বাজারে ওজনে তরমুজ বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, অপরিপক্ক তরমুজ বিক্রির। বাজারে ওঠা বেশিরভাগ তরমুজই এখনই পরিপক্ব হয়নি।
ক্রেতাদের অভিযোগ, টাকা দিয়ে তরমুজ কিনে ঠকছেন তারা।
প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, সম্প্রতি শুরু হওয়া তরমুজ মৌসুমে তারা বিক্রি করছেন পিস হিসেবে।
কিন্তু বাজারে ঘুরে দেখা যায়, অতিরিক্ত চাহিদার চাপে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ। পাইকারি বাজারে, একশ পিস ছোট তরমুজ ৩,০০০-৪,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সবচেয়ে বড় তরমুজ একশ পিস (৭-১২ কেজি) ২৫,০০০-৩০,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পাইকারি বাজারের হিসেবে খুচরা বাজারে এসব তরমুজ ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। তবে বাজারের চিত্র ভিন্ন। সেখানে খুচরা বিক্রেতারা তরমুজ বিক্রি করছেন ৬০০-৯০০ টাকায়।
এ মৌসুমে বরিশাল বিভাগে ৬১,২৫৮ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। আগের মৌসুমে এই পরিমাণ ছিল ৬৪,১৮৩ হেক্টর। অর্থাৎ এ মৌসুমে ২,২৯৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার কৃষি অধিদপ্তরের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্য বলছে, বেলে মাটির এলাকা হওয়ায় বরিশাল তরমুজ চাষের প্রধান এলাকা।বিভাগের অন্য তিন জেলা বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরেও তরবুজ চাষ হয়। এসব তরমুজ ক্ষেত থেকে যেমন বিক্রি হয়। তেমনি পাইকাররাও কিনে থাকেন।
বরিশাল ফ্রুট হার্ভেস্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কার্তিক দত্ত বলেন, “তরমুজ উত্তোলনের পর কৃষকরা পিস হিসেবে বিক্রি করেন। বিক্রেতারাও পিস হিসেবে কেনেন।”
তিনি বলেন, “নদীর মাছের ঘাট এখন তরমুজের দখলে। মৌসুম জুড়ে এ অবস্থা থাকবে। এসব তরমুজ পিস হিসেবে বিক্রি হয়। বরিশালের চাহিদা মিটিয়ে তা সারা দেশে পাঠানো হয়।”
বরিশাল নগরীর কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা রুনা বেগম জানান, সারাদিন রোজা রাখার পর পরিবারের সবার কাছেই রসালো তরমুজের চাহিদা থাকে। তাই তরমুজ কিনতে বাজারে এসে দেখি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে।
এবার দামও বেশি, গত বছর যেখানে ৪০-৫০ টাকা কেজি তরমুজ কেনা হয়েছিল, এবার ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দাম চাওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মিঠুন সরকার নামে আরেক ব্যক্তি জানান, অনেক জায়গায় ছোট ছোট তরমুজ পিস হিসেবে বিক্রি হয়। দাম শুধু বড় তরমুজের গায়ে লেখা আছে। প্রতি কেজি তরমুজের দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি।
তিনি বলেন, “ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ বিভিন্ন অভিযানের কারণে ব্যবসায়ীরা দিন দিন তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। তাই অভিযানকারী দলগুলোরও তাদের কৌশল পরিবর্তন করা উচিৎ।”
বরিশালে খুচরা তরমুজ বিক্রেতা সুজন মন্ডল বলেন, “তরমুজ হাতে পেলেই পচন শুরু হয়। খুচরা ক্রেতা কেটে সাদা দেখলেও কিনতে চায় না। তাই ওজন হিসেবে বিক্রি করা ছাড়া তার কোনো উপায় নেই।”
যদিও তিন-চার বছর আগে ব্যবসায়ীরা খুচরা বাজারে তরমুজ বিক্রি করে লাভবান হতেন বলে স্বীকার করেন তিনি।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর ছোট বৈশদিয়া গ্রামের কৃষক ফরিদুল ইসলাম জানান, এ বছর তিনি ১৩ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন, তাতে খরচ হয়েছে ৩০ লাখ টাকা।
তিনি ১০০টি বড় তরমুজ পিস হিসেবে বিক্রি করেছেন ৩০,০০০ টাকায়।
কিন্তু একই তরমুজ খুচরা বাজারে দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
ভোলা জেলার কৃষক কামরুল ইসলাম জানান, মৌসুমের শুরুতে রমজান মাস শুরু হওয়ায় দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। তবে আকার যত বড়ই হোক না কেন, পাইকারি বাজারে দাম তিনশ টাকার ওপরে ওঠে না। কিন্তু খুচরা বিক্রেতারা তা ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করছেন পাঁচ থেকে সাতশ টাকায়।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা কর্মকর্তা রাসেল খান জানান, পাইকারি বাজারে তরমুজের চাহিদার কারণে প্রতিনিয়ত তরমুজের দাম পরিবর্তন হচ্ছে। বরিশাল নগরীর খুচরা বিক্রেতারা বিভিন্ন কৌশলে কেজিতে তরমুজ বিক্রি করছেন। তারা প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে অগ্রিম দাম নির্ধারণ করে।