ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ছত্রকান্দা গ্রামের রাকিব হোসেন মিলন। অর্থ মন্ত্রণালয়ে লিফটম্যান হিসেবে কর্মরত থাকার সুবাদে থাকতেন ঢাকায়। তবে পরিবারের অন্যরা থাকতেন গ্রামের বাড়ি। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) সকালে মিলন তার মা হুরি বেগম, স্ত্রী সামিমা ইসলাম সুমি (২৫), তাদের বড় ছেলে আলভী রোহান (৭) এবং ছোট ছেলে আবু সিনানসহ (৪) প্রতিবেশী মর্জিনা বেগমকে (৭০) সঙ্গে নিয়ে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।
তারা একটি পিকআপে রওনা দেন। চালক ও চালকের সহকারীসহ মোট যাত্রী ছিলেন ১৫ জন। তাদের সবাই অর্থ মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ নিতে যাচ্ছিলেন। তবে সেই ত্রাণ আর নেওয়া হলো না তাদের। পথিমধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মিলনের পরিবারের চারজনসহ মোট ১৪ জন মারা গেছেন।
সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুরের তেঁতুলতলা এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপটির সংঘর্ষ হয়।
মঙ্গলবার দুুপুরে সরেজমিনে মিলনদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চলছে শোকের মাতম। পারিবারিক কবরস্থানে চলছে কবর খননের কাজ। দুপুর ২টায় নিহতদের লাশবাহী গাড়ি বাড়িতে পৌঁছাতেই কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে বাড়ির আঙিনা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার এশার নামাজের পর পরিবারের সবাইকে দাফন করা হবে।
মিলনের পরিবারের অন্য নিহতরা হলেন তার স্ত্রী সুমি বেগম (৩৫), বড় ছেলে রোহান (৯), ছোট ছেলে সিনান (৬)।
মিলনের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বাবা ঢাকায় চাকরি করায় চাচা হাবিবুরের কাছেই বড় হয়েছেন ছোট্ট সিনান। তাই সিনানও হাবিবুরের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। সবে স্কুলে যাওয়া শুরু করেছিল শিশুটি। আর কোনোদিনই স্কুলের বারান্দায় যেতে পারবে না সিনান।
হাবিবুর রহমান বলেন, “আমার ভাই মিলন অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ত্রাণের কিছু বরাদ্দ এনেছিল এলাকার কয়েকটি পরিবারের জন্য। সেটা আনতেই আজ সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এ দুর্ঘটনা। এতে আমার ভাইয়ের পুরো পরিবার একসঙ্গে চলে গেল। আমার মা-ও ছিলেন তাদের সঙ্গে। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অন্য নিহতরা হলেন, মিলনের প্রতিবেশী মর্জিনা বেগম (৭০), পিকআপ চালক আলফাডাঙ্গা পৌরসভার কুসুমদি গ্রামের নজরুল মোল্ল্যা (৩৫), আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের বেজিডাঙ্গা গ্রামের জানাহারা বেগম (৫০), সোনিয়া বেগম (৩০), সোনিয়ার ১১ মাস বয়সী শিশুসন্তান নুরানী, সদর ইউনিয়নের চরবাকাইল গ্রামের তবি খান (৫৫), হিদাডাঙ্গা গ্রামের শুকুরন বেগম (৯০), তার মেয়ে মনিরা বেগম সূর্য (৫৫), কহিনুর বেগম (৬০) এবং মো. ইব্রাহীম (৩২)।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, “মৃতদের দাফনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ২০,০০০ টাকা করে তাৎক্ষণিক অনুদান এবং চিকিৎসাধীনদের জন্য ২০,০০০ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে।”
তিনি জানান, নিহতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে এবং আহতদের পরিবারকে তিন লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।