ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাস-ধোঁয়ায় পুড়ছে কৃষকের কপাল

ঢাকার ধামরাইয়ে ইটভাটার চিমনির বিষাক্ত গ্যাস ও গরম কালো ধোঁয়ায় পরিবেশের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জমির ফসল। কৃষকদের দাবি, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওই এলাকার প্রায় ৪০০ শতক জমির ফসল। চিটায় পরিণত হয়েছে ধান।

বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন কৃষকরা। সোমবারের (৬ মে) মধ্যে ভুক্তভোগীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধামরাই উপজেলার কালামপুর-সাটুরিয়া আঞ্চলিক সড়কের নান্দেশ্বরী এলাকায় রয়েছে চারটি ইটভাটা। এরমধ্যে গত সপ্তাহে মডার্ন ব্রিকস কোম্পানি নামে একটি ইটভাটার আগুন নেভানো হয়। ওই ইটভাটার অদূরে বড় নারায়ণপুর এলাকায় কৃষি জমিতে আবাদ করা হয়েছে বোরো ধান। এসব জমির মধ্যে বেশ কয়েকটি জমির ধান গাছের পাতা বিবর্ণ অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। ধানগুলোও চিটায় পরিণত হয়েছে। জমির অদূরেই কাজ করতে দেখা যায় কয়েকজন কৃষককে। তারা অভিযোগ করেন, মডার্ন ব্রিকস কোম্পানির ইটভাটাটি গত সপ্তাহে বন্ধ করার পর সেটির বিষাক্ত গ্যাস ও গরম কালো ধোঁয়ার তাপে ধানের এ ক্ষতি হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন স্থানীয় অন্তত ২০ জন কৃষক।  

 

মো. সাদেক আলী নামে এক কৃষক বলেন, “আমি ৩৩ শতক জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। গত সপ্তাহে মডার্ন ব্রিকস ইটভাটা বন্ধ করা হলে সেটির গরম ধোঁয়ার তাপে আমার ধান গাছ পুড়ে যায়।”

বড় নারায়ণপুর এলাকায় ১০০ শতক জমিতে ধান চাষ করেছিলেন আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, “গত সপ্তাহের শুরুর দিকে জমিতে এসে দেখি, ধান গাছ সব পুড়ে গেছে। আশপাশের বেশ কয়েকটি জমিতেও একই অবস্থা। সব কৃষকরা মিলে ক্ষতিপূরণের জন্য উপজেলায় চিঠি দিতে চেয়েছিলাম। তখন ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ হোসেনের সঙ্গে দেখা হলে তাকে সব কিছু জানাই। এরপর তিনি আমাদেরকে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন।”

মডার্ন ব্রিকস ইটভাটার ব্যবস্থাপক ফারুক হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এক সপ্তাহ আগে আগুন নেভানো হয়েছে। ইটভাটা থাকলে জমির ক্ষতি হয়ই।” এর বেশি আরও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে ধামরাইয়ের আমতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন বলেন, “কৃষকরা প্রথমে ৭০০-৮০০ জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এরপর ভূক্তভোগীদের নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করি। তখন কৃষকরা প্রায় ৪০০ শতক জমির ফসলের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে দিতে বলেন। বিষয়টি নিয়ে ইটভাটার মালিকপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আশা করছি, আগামী সোমবার কৃষকরা তাদের প্রত্যাশিত ক্ষতিপূরণ পেয়ে যাবেন।”

ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, “বড় নারায়ণপুর এলাকায় ইটভাটার কারণে ফসলের ক্ষতির বিষয়ে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে বিষয়টি আমি শুনেছি। এ ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভূক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে তাদের ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”