রাজধানী ঢাকার একটি এগ্রো ফার্মে কোরবানি উপলক্ষে একটি ছাগলের দাম ১৫ লাখ টাকা হাঁকানো নিয়ে চলছে আলোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনেকেই দাবি করছেন, একজন রাজস্ব কর্মকর্তার ছেলে ওই ছাগলটি কিনেছেন।
তবে এ বিষয়ে যে রাজস্ব কর্মকর্তার নাম উঠে আসছে, ওই ক্রেতা আসলেই তার ছেলে কি-না, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা।
এদিকে, ঢাকার মোহাম্মদপুরের “সাদিক এগ্রো” ফার্ম থেকে জানানো হয়েছে, আলোচিত ওই তরুণ এক লাখ টাকা দিয়ে ছাগলটি বুকিং করেছিলেন। তবে তিনি এখনও পুরো টাকা পরিশোধ করে ছাগলটিকে খামার থেকে নিয়ে যাননি। ছাগলটি এখনও তাদের খামারেই রয়েছে।
তবে ছাগলটির ক্রেতার বাবা যেই হোন না কেন, অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠছে একটি ছাগলের দাম কেন ১৫ লাখ টাকা?
এ বিষয়ে সাদিক এগ্রোর মালিক মোহাম্মদ ইমরান হোসেনের ভাষ্য, যে ছাগলের দাম নিয়ে এত জল্পনা কল্পনা, সেটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাতের ছাগল।
এ জাতের নাম “বিটল” এবং বাংলাদেশে এটি এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় ছাগল বলে দাবি করেন ইমরান হোসেন।
আলোচিত ওই ধূসর বাদামি রঙের ছাগলটির ওজন ১৭৫ কেজি আর উচ্চতা ৬২ ইঞ্চি জানিয়ে ইমরান হোসেন বলেন, “বিরল প্রজাতির এই ছাগল বাংলাদেশে এখন একটিই আছে।"
এটি আমদানি করা হয়েছিল কি-না জানতে চাইলে, তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, "আজ থেকে দুই মাস আগে এটিকে তারা যশোরের একটি হাট থেকে কিনেছিলেন।"
যশোরের হাটে এই ছাগল কীভাবে এলো, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা তা জানি না। তবে এরকম ছাগল, বড় বড় গরু প্রাথমিক পর্যায়ে গ্রামে গঞ্জে, হাটেই বিক্রি হয়। হাট থেকে কিনে এনে আমরা সেগুলো লালন-পালন করে বিক্রি করি। আমাদের কাছে যখন তথ্য আসছে, আমরা সাথে সাথে লোক পাঠিয়ে টাকা দিয়ে এটা কিনে নিয়ে আসছি। কারণ আমাদের কাছে ছাগলটাকে খুব ভালো লেগেছে।”
তার দাবি, এই ছাগলটির ক্রয়মূল্যই পড়েছিল ১০ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা। সেইসঙ্গে আনুষঙ্গিক আরও খরচ আছে। সেজন্যই এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছিলো ১৫ লাখ টাকা।
ছাগলের দাম বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে উন্নত জাত এবং বংশমর্যাদার কথাও উল্লেখ করেন ইমরান হোসেন।
এখানে বংশমর্যাদার বিষয়টি ঠিক কী, তা জানতে চাইলে ইমরান হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ভালো বংশমর্যাদার ছাগল বা গরুর ক্ষেত্রে বিক্রির সময় ক্রেতার কাছে সার্টিফিকেট দেখানো হয়।”
অবিক্রীত রয়ে গেছে আলোচিত ছাগলটি
সাদিক এগ্রোর দাবি, বিটল প্রজাতির ওই ছাগলটির দাম ১৫ লাখ টাকা চাইলেও তা ১২ লাখ টাকায় বিক্রির চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্রেতা সেটি না নেওয়ায় এখনও অবিক্রীতই রয়ে গেছে।
সাদিক এগ্রো’র মালিক ইমরান হোসেন বলেন, “ওই ছেলেটা ছাগলটা ডেলিভারি নেয়নি। এক লাখ টাকা এডভান্স দিয়ে বুক করেছিল। এ মাসের ১২ তারিখে বাকি টাকা পরিশোধ করে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এরপর আমরা যোগাযোগ করতে পারিনি, কারণ ওকে আর খুঁজে পাইনি।”
তাহলে, এখন কী ক্রেতার আগাম টাকা ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে ইমারন হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আমরা তো তার সঙ্গে যোগাযোগ-ই করতে পারছি না। ওর যদি কোনো ভ্যালিড রিজন থাকে, তাহলে অবশ্যই আমরা ওর এডভান্সের টাকা ফেরত দিব। কিন্তু যদি সেটা না থাকে এবং ও যদি আমাদের সঙ্গে দুষ্টুমি করার জন্য এটা করে থাকে, তাহলে এই টাকাটা ফোরফিট (বাজেয়াপ্ত) করে দিবো আমরা। কারণ, এই ছাগলটা তো আমাদের থেকে অনেকেই কিনতে চেয়েছিল। কিন্তু ও আমাদের থেকে বুক করছিল বলেই আমরা কারও কাছে সেটা বিক্রি করতে পারিনি।”