বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) অধীনে নেওয়া বিসিএসসহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তাসহ ১৭ জনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডি সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (৮ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এই ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন– পিএসসির উপপরিচালক আবু জাফর, উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পরিচালক আলমগীর কবির, অডিটর প্রিয়নাথ রায়, ডেসপাস রাইডার খলিলুর রহমান, অফিস সহায়ক সাজেদুল ইসলাম ও অবসরপ্রাপ্ত গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী।
এর মধ্যে আবেদ আলীকে নিয়ে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্রের সঙ্গে জড়িত আবেদ আলী পিএসসির চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক। তবে গাড়িচালক হয়েও তিনি গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদ। ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকায় তার এগারো তলা ও সাত তলা দুটি ভবনের তথ্য সামনে এসেছে। এছাড়া মাদারীপুরে রয়েছে তার বিলাসবহুল একটি বাড়ি। গত কিছুদিন ধরে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে জনসংযোগ শুরু করেছেন তিনি। এলাকাবাসীর বয়ানেও উঠে এসেছে তার দামী গাড়ি ও বিলাসী জীবনযাপনের তথ্য।
এছাড়াও আটক করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী শাহাদাত হোসেন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের মেডিকেল টেকনিশিয়ান নিয়ামুন হাসান, নোমান সিদ্দিকী, আবু সোলায়মান মো. সোহেল, জাহিদুল ইসলাম, মামুনুর রশীদ, সাখাওয়াত হোসেন, সায়েম হোসেন, লিটন সরকার ও সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম।
এর আগে, গত রবিবার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টি ফোর পিএসসির ৩০টি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এরপর সিআইডির একটি অভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে এই চক্রটিকে আটক করে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত শুক্রবার পিএসসির অধীনে অনুষ্ঠিত রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করে চক্রটি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই চক্রের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা ৩৩তম বিসিএস থেকে সর্বশেষ ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষাসহ নন-ক্যাডার নিয়োগের একাধিক পরীক্ষায়ও তারা প্রশ্ন ফাঁস করেছে।
এই চক্রের এক সদস্য অফিস সহকারী সাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি উপপরিচালক জাফরকে দুই কোটি টাকা দিয়ে রেলওয়ের প্রশ্ন কিনেছিলেন। পরে তিনি এই প্রশ্ন চাকরিপ্রার্থীদের কাছে বিক্রি করেন।
সিআইডির একজন কর্মকর্তা জানান, পিএসসির অধীনে চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হতে পারে এটা তারা কল্পনাও করেননি। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের একাধিক সদস্য নির্ধিদ্বায় সব স্বীকার করেছেন। প্রশ্ন ফাঁস করে আয়কৃত অর্থ দিয়ে তারা বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
সিআইডি সূত্র জানায়, প্রশ্নফাঁসের মামলার পাশাপাশি আটককৃতদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনেও মামলা দায়ের করা হবে।