কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে টানা পাঁচ দিন ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। ২৩ জুলাই রাতে সীমিত পরিসরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়। পরদিন ২৪ জুলাই সারাদেশেই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট চালু হয়। অবশ্য এখনও বন্ধ রয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট।
ব্রডব্যান্ড সংযোগ চালু হলেও মেটার প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং টিকটক বন্ধ রয়েছে। কিন্তু ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক নিজে এসব প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় রয়েছেন।
রবিবার (২৮ জুলাই) বিকেল ৫টা পর্যন্ত তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি প্রতিনিয়তই নিজের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তথ্য নিজের ফেসবুকে পোস্ট করে আসছেন। এছাড়া বিভিন্ন আয়োজনের সরাসরি সম্প্রচারও করছেন। গত বুধবার থেকে তিনি একাধিক পোস্ট করছেন। এগুলোর কয়েকটিতে তিনি ক্যাপশনের পাশাপাশি ছবি-ভিডিও শেয়ার করেছেন।
প্রতিমন্ত্রীকে ইনস্টাগ্রামেও সক্রিয় দেখা গেছে। এছাড়া তার ভেরিফায়েড টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকেও নিয়মিত পোস্ট করছেন।
সাধারণ মানুষের জন্য এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ রেখে প্রতিমন্ত্রী নিজে তা ব্যবহার করছেন- ফলে নাগরিকদের মধ্যে হচ্ছে আলোচনা-সমালোচনা।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী কথা বলেছেন সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, গুজব প্রতিরোধে মানুষকে সঠিক তথ্য জানাতে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোও এভাবে সক্রিয় থাকতে পারবে।
ফেসবুকের মতো যেসব প্ল্যাটফর্ম বন্ধ রয়েছে, সেগুলো মূলধারার গণমাধ্যম ব্যবহার করতে পারলে গুজব ঠেকাতে সহায়ক হতো কি-না, তা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এ ব্যাপারে আমরা ভাবছি।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো কবে বাংলাদেশে সবার জন্য চালু হবে, জানতে চাইলে জুনাইদ আহ্মেদ বলেন, “এটা ফেসবুক-টিকটকই বলতে পারবে। তারা বাংলাদেশের সংবিধান, আইন মানবে কি-না এবং নিজেদের যে গাইডলাইন আছে, সেটা ঠিকমতো মেনে চলবে কি-না, এসব নিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা যদি এসে ব্যাখ্যা দিয়ে যায়, তখন সরকার চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসবে।”