রাজশাহীতে ৩ পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুর

কোটা সংস্কার নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিল থেকে রাজশাহীতে তিনটি পুলিশ বক্সে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এ সময় আন্দোলনকারীদের মারধরে আহত হয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের এক সদস্য ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাংশের এক সমন্বয়কারী।

শনিবার (৩ আগস্ট) সকালে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জামিরুল ইসলাম।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সকালে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে আন্দোলনকারীরা। তারা মিছিল নিয়ে তালাইমারী পৌঁছালে সেখানে থাকা পুলিশ বক্সে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। পরে মিছিল নিয়ে নগরীর রেলগেট চত্বর অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় রেলগেট পুলিশ বক্সে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর আন্দোলনকারীরা ভদ্রা মোড়ে আরও একটি পুলিশ বক্সে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পাশাপাশি রাজশাহী স্টেশন এলাকায় শ্রমিক লীগ ও রেলগেট এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়সহ সড়কের পাশের বেশ কিছু স্থাপনাতেও ভাঙচুর চালানো হয়।

তিনটি পুলিশ বক্সে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে/ঢাকা ট্রিবিউন

পুলিশ জানায়, আন্দোলনকারীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে নগর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য সাইফুল ইসলাম এবং রেলগেট মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাংশের সমন্বয়ক রাকিব হাসান অর্ণবকে পিটিয়ে জখম করে। অর্ণব পুলিশ বক্সসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালাতে বাধা দিয়েছিল। তিনি আন্দোলনকারীদের বলেছেন, “আমরা কোথাও হামলা করতে আসিনি”। এজন্য তার ওপর ক্ষুব্ধ হয় তারা।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জামিরুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “কয়েকদিন আগে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ায় অর্ণবকে এবং পুলিশ বক্স ভাঙচুরের ছবি তোলার সময় পুলিশ কনস্টেবল সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে জখম করা হয়। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কনস্টেবল সাইফুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার হাসপাতালে সাইফুলকে দেখতে গেছেন। শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার খোঁজ নিয়েছেন।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে রাজশাহীতে তিনটি পুলিশ বক্সে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়/ঢাকা ট্রিবিউন

জামিরুল ইসলাম আরও বলেন, “পুলিশ আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভে বাধা দেয়নি। তাদের বিক্ষোভ করতে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও তারা পুলিশ বক্সগুলোতে হামলা করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। এছাড়া রাস্তার পাশের বেশ কিছু স্থাপনাতেও ভাঙচুর চালিয়েছে। এসব ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, আহত পুলিশ সদস্য সাইফুল ইসলামকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে গেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এ সময় তিনি আহত পুলিশ সদস্যের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে আন্দোলনকারীরা/ঢাকা ট্রিবিউন

অপরদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। শনিবার সকাল থেকে তারা সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে, নগরীর কুমারপাড়ায় দলীয় কার্যালয়, রানিবাজার ও নগরভবনে অবস্থান নেন।