ক্ষোভের আগুনে পুড়লো শিশু একাডেমি

প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে সোমবার দেশ ছেড়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। টানা চারবার ক্ষমতায় আসার পরও ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে হয় তাকে।

প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশ ছাড়ার খবরের পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় থানা, সরকারি অফিস ভবন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাসভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের খবর আসতে থাকে। এসব ঘটনায় পুলিশ সদস্য ও আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন সাধারণ মানুষও।

ঢাকায় দুবৃর্ত্তরা আগুন দিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িতে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে জনপ্রিয় গায়ক রাহুল আনন্দ’র বাড়ি। ধ্বংস করা হয়েছে তার সব বাদ্যযন্ত্র। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর করা হয়েছে বিভিন্ন ভাস্কর্য। রাজশাহীতে ভাঙচুর করা হয়েছে “স্টার সিনেপ্লেক্স”র একটি শাখা। ঢাকায় বিভিন্ন নাট্যদলের স্থাপনায় হামলা হয়েছে, ভাঙচুর করা হয়েছে ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী শশীলজ।এসব খবরে যখন চলছে সমালোচনা, তখন সামনে এলো বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের খবর।

জানা গেছে, সোমবার (৫ আগস্ট) সরকার পতনের পর বিজয় মিছিল শুরুর পাশাপাশি অন্যান্য স্থানের মতো রাজধানীর শাহবাগের দোয়েল চত্বরে অবস্থিত শিশু একাডেমি ভবনে ঢুকে পড়ে একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় তারা ভবনটিতে লুটপাট চালায়, এরপর ভাঙচুর করে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত মূল্যবান বই, আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং গাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। তবে আতঙ্ক ও শঙ্কায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা সেখানে না আসায় ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি।

এদিকে শিশু একাডেমিতে এ ধরনের হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।