পাল্টে গেছে সদরঘাটের চিত্র

দেশের বৃহৎ নদীবন্দর সদরঘাটকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, মাদকের কারবার, জুয়া, কুলিদের বেপরোয়া কার্যক্রমসহ নানাবিধ অনিয়ম ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। তবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পাল্টে গেছে সদরঘাটের চিত্র। এখন অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছে যাত্রীসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে এখনও নানা কারণে আগের তুলনায় যাত্রী সংখ্যা কম রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদী বন্দর এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধ হওয়াই আশেপাশের দোকানগুলোতে কিছু কিছু  জিনিসপত্রের দাম কমেছে। হোটেলগুলোতে খাবারের মানের উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। নদী পারাপারের ঘাটে চাঁদা তুলতো আওয়ামী সমর্থিত ব্যক্তিরা। কুলিদের লাল নীল হলুদ বাহিনী অভিনব কৌশলে যাত্রীদের জিম্মি করে চাঁদা আদায় করত। কিন্তু সেই নানা রঙ্গের বাহিনীকে সদরঘাটে দেখা যাচ্ছে না। ঘাটের আশেপাশে প্রকাশ্যে অনেকে মাদকদ্রব্য কারবারি চলাত কিন্তু বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে এমভি সোনার তরী -৩ এর এক কেরানী বলেন, “সদরঘাটের এমন চিত্র বিরল।এর আগে কখনো এমন শৃঙ্খল পরিস্থিতি সরজমিনে দেখিনি। আশেপাশে টোকাইরা মাদকদ্রব্য সেবন ও বিক্রি করতো। এখন  তাদের আর দেখা যায়না। লঞ্চের ভাড়া এখন সরকার কর্তৃক নির্ধারিত দামে নেওয়া হচ্ছে। অন্যায়ের কোনো সুযোগ নেই।”

এ বিষয়ে ফল বিক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, “এখন আমরা অনেক ভালো আছি। লাভের অংশের অনেকটা চাঁদাবাজদের দখলে চলে যেত। এখানে প্রত্যেক দোকান থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা নিত। সদরঘাটে প্রবেশ করা থেকে শুরু করে বের হওয়া পর্যন্ত চাঁদাবাজদের সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবে এখন এমন কোনো কিছুই নেই। বউ বাচ্চা নিয়ে সুখে আছি। লাভের অংশে আর কেউ ভাগ বসাইতে পারছে না।”

সদরঘাটের সামনের এক হোটেলের খাবার পরিবেশক জারিফ হাসান বলেন, “জিনিসপত্রের অতিরিক্ত দাম, চাঁদাবাজিসহ ইত্যাদি কারণে আমাদের খাবারের দাম বেশি রাখতে হয়েছে। এখনও দেশে জিনিসপত্রের দাম তেমনভাবে কমেনি। কিন্তু চাঁদাবাজিটা কমেছে। চাঁদাবাজির কারণে লাভের একটা বড় অংশ চলে যেত। এখন চাঁদাবাজি নেই তাই প্রতি প্লেটে খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছি। জিনিসপত্রের দাম কমলে খাবারের দামও কমবে।”

কাপড় ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম বলেন , “আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি নজরুলের ছেলেরা এসে জোর করে চাঁদা নিত। না দিলে ভয়ভীতি দেখাতো। কিন্তু বর্তমানে কেউ চাঁদা তুলতে আসে না। আমরা এখন খুব স্বস্তিতে আছি।”

সার্বিক বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সলেমান বলেন, “সদরঘাটের চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য অনিয়ম বন্ধের জন্য আমরা আগে থেকেই কাজ করছি। এ ধারাবাহিকতা আমাদের চলমান থাকবে। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য পরবর্তীতে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয় করবো।”