চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের ঘটনা তদন্ত করছে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)। তদন্তে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সেই পরীক্ষা বাতিল করার পাশাপাশি অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে ওই কমিটি। পিএসসির উচ্চপর্যায়ের বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদন এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো।
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তদন্তের প্রতিবেদন চূড়ান্ত হতে পারে বলে সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে পত্রিকাটি।
এ বিষয়ে পিএসসির উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, অভিযোগ ততদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পিএসসি। কমিটির আহ্বায়ক প্রতিষ্ঠানটির যুগ্ম সচিব আবদুল আলীম খানকে। পিএসসির পরিচালক দিলাওয়েজ দুরদানা এই কমিটির সদস্য। এছাড়া তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন পিএসসির পরিচালক মোহাম্মদ আজিজুল হক।
কমিটির কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা সবকিছু যৌক্তিক ও ন্যায়সংগতভাবে তদন্ত করছি। প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রমাণিত হলে পরীক্ষা বাতিল করার সুপারিশ করা হবে। এই প্রতিবেদন সরকারকে পাঠানো হবে। সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।”
এদিকে, তদন্তের বিষয়ে জানতে পিএসসির চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, “কাজ চলছে। আশা করছি, শিগগিরই প্রতিবেদন তৈরি হবে।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী পদসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে সরকারি কর্ম কমিশনের দুজন উপপরিচালক, একজন সহকারী পরিচালকসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
এর আগে, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোর সম্প্রতি “বিসিএস প্রিলি-লিখিতসহ গুরুত্বপূর্ণ ৩০ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস”শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে পিএসসির ক্যাডার, নন-ক্যাডারসহ ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছরের ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত রেলওয়ের ৫১৬টি পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এক যুগের বেশি সময় ধরে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছে একটি চক্র। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিসিএসসহ ৩০টি ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত পিএসসির কয়েকজন কর্মকর্তা। প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ কয়েকটি অভিযোগে পিএসসির পাঁচ কর্মকর্তা এখন কারাগারে।