‘গান গেয়ে গেয়ে হত্যা’: ফোন করে বাসা থেকে ডেকে নেওয়া হয় শাহাদাতকে

চট্টগ্রামে শাহাদাত হোসেন নামের যে তরুণকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গান গেয়ে গেয়ে হত্যা করা হয়েছিল, তাকে টেলিফোনে বাসা থেকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তার এক স্বজন।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিহত শাহাদাতের স্ত্রী শারমিন আক্তারের মোবাইলে কল করা হলে সেটি ধরেন হোসনে আরা নামের এক নারী। তিনি নিজেকে শারমিনের বড় বোন বলে পরিচয় দেন।

হোসনে আরা অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দুই বছর আগে শাহাদাতের সঙ্গে শারমিনের বিয়ে হয়। বিআরটিসি বাস কাউন্টার সংলগ্ন বয়লার কলোনিতে শাহাদাত তার মা ও স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন।”

তিনি বলেন, “শারমিন বলেছে, ১৩ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে সাগর নামে একজন শাহাদাতকে ফোন করে। ‘কথা আছে’ বলে বাসা থেকে বের হতে বলেন। টেলিফোনে বলার অনুরোধ করার পরও সাগর বাসা থেকে বের হওয়ার অনুরোধ করায় তিনি বের হয়েছিলেন।”

জানা যায়, পরদিন ১৪ আগস্ট রাতে নগরে প্রবর্তক এলাকা থেকে শাহাদাতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের মাথা, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। ১৫ আগস্ট শাহাদাতের চাচা মো. হারুন বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে আসামি করা হয় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের। কিন্তু কেন এ হত্যাকাণ্ড কিংবা কার সঙ্গে বিরোধ, তা এজাহারে উল্লেখ নেই।

এ ঘটনার এক মাস ৬ দিন পর ২১ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণকে বেঁধে পেটানোর ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এ প্রসঙ্গে হোসনে আরা বলেন, “আমরা শাহাদাতকে পিটিয়ে মেরে ফেলার বিষয়টি জানতাম না। গত পরশু দিন (শনিবার) আমাদেরকে থানায় ডেকে নিয়ে পুলিশ ভিডিও দেখায়, তখন সেটি আমরা শাহাদাতকে মারধরের বলে নিশ্চিত হয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “বাসা থেকে বের হওয়ার পর শাহাদাতের খোঁজ মিলছিল না। ১৪ আগস্ট সন্ধ্যায় আমরা ফেসবুকে শাহাদাতের লাশের ছবি দেখি। এরপর আমরা হাসপাতালে যাই, সেখান থেকে থানায় পাঠানো হয়। রাতে থানা থেকে বের হওয়ার সময় এক তরুণ আমাদের পরিচয় জানতে চান। তিনি আমাদের কাছে জানতে চান, ‘দুই নম্বর গেইট এলাকায় একটা ছেলেকে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছিল। আপনারা তার পরিবারের কেউ’?”

হোসনে আরা বলেন, “তখন আমরা ভয়ে পরিচয় না দিয়ে বলেছি পারিবারিক একটা ঝামেলার কারণে আমরা থানায় এসেছি।”

সাগর নামের যে ব্যক্তি টেলিফোনে শাহাদাতকে বাসা থেকে বের হতে বলেছিলেন, পরে আর তার খোঁজ পাওয়া যায়নি দাবি করে হোসনে আরা বলেন, “আমরা শুনেছি শাহাদাত তাকে ৫,০০০ টাকা ধার দিয়েছিল। সেই টাকা ফেরত না দেওয়ায় দুইজনের মধ্যে ঝামেলাও হয়েছিল।

মামলার বাদি শাহাদাতের চাচা মো. হারুন বলেন, “১৪ আগস্ট রাতে শাহদাতের মা, স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যায়। সেখানে লাশঘরে শাহাদাতের লাশ ছিল। আমরা লাশ নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ বলেছে, পোস্ট মোর্টেম ছাড়া লাশ দেওয়া যাবে না। পরদিন সকালে পোস্ট মোর্টেমের পর আমাদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।”

নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ক্রাইম) রইছ উদ্দিন বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা ১৩ আগস্ট রাতে ষোলশহর দুই নম্বর গেইটের আশপাশে শাহাদাতকে মারধর করা হয়। পরে তার লাশ বদনা শাহ মাজারের সামনের সড়কে ফেলে রাখা হয়। শাহাদাতের স্বজনরাও জানত না, তাকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। মারধরের ভিডিও পেয়ে আমরাই তাদের ডেকে এনে মারধরের শিকার ব্যক্তি শাহাদাত বলে নিশ্চিত হয়েছি।”

রইছ বলেন, “অপরাধীদের ধরতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। যারা হামলায় জড়িত ছিল তাদের শনাক্তে ভিডিওটি নিয়ে কাজ করছে বিশেষ টিম।”