৬ বছরে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে ১১টি

সুন্দরবনে তৃতীয় দফায় বাঘ গণনার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। জরিপে দেখা যায়, গত ছয় বছরে দেশে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে ১১টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে খুলনা অঞ্চলে। তবে কমেছে সাতক্ষীরায়।

জরিপকারী দলের ধারণা, চোরা শিকারিদের প্রভাব ও বাঘের খাবার (হরিণ) কমে যাওয়ায় সুন্দরবনের ওই এলাকায় বাঘের সংখ্যা কমেছে।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০১৮ সালের বাঘ জরিপে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা ১০৬ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ১১৪টিতে। তার আগে ২০১৫ সালের জরিপে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা পাওয়া যায় ১০৬টি।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ফলাফল ঘোষণা করেন।

বনের ২,২৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই জরিপ চালানো হয়। জরিপটি পরিচালিত হয় ২০২৩ সালের জানুয়ারি, এপ্রিল, নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের মার্চে। জরিপের অংশ হিসেবে বনে স্থাপন করা হয় মোট ৬৫৭টি ক্যামেরা। ক্যামেরার পাশ দিয়ে বাঘ হেঁটে যাওয়ার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবি ওঠে। ক্যামেরায় ওঠা মোট ৩১,৪৮২টি ছবির মধ্যে বাঘের ছবি ছিল ৭,২৯৭টি।

ক্যামেরা ছাড়াও সুন্দরবনের ১,৩০৬ কিলোমিটার খালপাড়ে সরেজমিনে জরিপ পরিচালনা করা হয়। বাঘের পায়ের ছাপ গুনে বাঘের সংখ্যা ও ঘনত্ব পরিমাপ করা হয়। জরিপে প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ২.৬২টি বাঘের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। ক্যামেরায় মোট ৮৪টি বাঘের ছবি পাওয়া গেছে। বাকি ৪১টি বাঘ খাল জরিপের মাধ্যমে পাওয়া গেছে।

জরিপ সম্পর্কে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “এবারের জরিপে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাঘ শাবকের ছবিও পাওয়া গেছে। তবে সেগুলো জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এবারের জরিপে ২১টি বাঘ শাবকের ছবি পাওয়া গেছে। আগের জরিপগুলোতে ৫টি করে বাঘ শাবকের ছবি পাওয়া গিয়েছিল। তবে এগুলোকে গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। কারণ বাঘ শাবকের মৃত্যুর হার অনেক বেশি।”

তিনি বলেন, “প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন-আইইউসিএন বাঘকে বাংলাদেশের অতিবিপন্ন প্রাণি হিসেবে উল্লেখ করেছে। ২০১৩ সালে বিশ্বে ১৩টি টাইগার রেঞ্জ কান্ট্রি ছিল। এখন বিশ্বের ১০টি দেশে বাঘ অবশিষ্ট আছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ আছে। আর ভিয়েতনাম কম্বোডিয়া লাওসের বনাঞ্চল থেকে বাঘ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিশ্বব্যাপী বর্তমানে বাঘের সংখ্যা ৩,৮৪০টি।”