ভোক্তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকার বনানীর স্টার কাবাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হোটেলটির ম্যানেজারসহ ১১ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে বনানী থানা পুলিশ। এরপর এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে স্টার কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না ও ক্ষমাস্বরুপ ১ হাজার এতিম শিশুকে একবেলা খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) স্টার কাবাব অ্যান্ড রেষ্টুরেন্টের সিইও এস. এম. মনিরুজ্জামানের সই করা এক প্রতিশ্রুতিনামা প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। সেখানেই এ বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়।
স্টার কাবাব এন্ড রেষ্টুরেন্ট গ্রাহক সালেহ মোহাম্মদ রশীদ অলককে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যয় ও ক্ষতিপূরণ দিতে চাইলে তিনি ক্ষমার শর্তস্বরূপ ১০০০ এতিমকে একবেলা বিনামূল্যে খাবার দিতে বলেন কর্তৃপক্ষকে। সে অনুযায়ী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে ১০০০ এতিম শিশুকে একবেলা উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, রবিবার বিকেলে আমাদের বনানী স্টার কাবাবে একজন সম্মানিত কাস্টমারের (গ্রাহক) সঙ্গে একজন কর্মচারীর ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে উদ্ভূত অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য আমরা অত্যন্ত দুঃখিত ও লজ্জিত। সেইসঙ্গে আমরা আমাদের এই সম্মানিত কাস্টমারের কাছে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তির আওতায় নিয়ে এসে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা আমাদের সম্মানিত কাস্টমারদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে ঐতিহ্যগতভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিবারণে আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। স্টার কাবাব সম্মানিত কাস্টমারদের সর্বাধিক মর্যাদায় মূল্যায়ন করে।
উল্লেখ্য, রবিবার দুপুরে অলোক তার এক বন্ধুর সামনে পরিবেশন করা খাবারে গন্ধ পাওয়ার অভিযোগ করলে স্টার কাবাবের ম্যানেজার প্রত্যুত্তরে বলেন, “জীবনে টিক্কা খাননি আপনি। এটা এমনই হয়।” অলক বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে আশপাশের আরও কয়েকজন গ্রাহক একই অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে প্রথম ওয়েটারদের সঙ্গে এবং পরে ম্যানেজারের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কলবেল চেপে সব স্টাফকে জড়ো করেন ম্যানেজার। এ সময় সালেহ অলককে স্টার কাবাবের ১৪ থেকে ১৫ জন মিলে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তার মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়।