সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার যশোরেশ্বরী কালীমন্দির থেকে চুরি যাওয়া প্রতিমার মাথার স্বর্ণের মুকুটটি এখনও উদ্ধার হয়নি।
শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বেলা ২টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। চুরির ঘটনায় থানায় কোনো মামলাও হয়নি।
শ্যামনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফকির তাইজুল ইসলাম বলেন, মন্দিরের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ওই ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
২০২১ সালে ২৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যশোরেশ্বরী কালীমন্দির পরিদর্শনে গিয়ে কালীপ্রতিমার মাথায় স্বর্ণের ওই মুকুটটি পরিয়ে দিয়েছিলেন। মুকুটটি চুরি হয়ে যাওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তারা চোর শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। ধর্মীয় স্পর্শকাতর ঘটনা হওয়ায় অত্যন্ত সতর্কতা ও গুরুত্ব সহকারে ঘটনাটির তদন্ত করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, ঘটনার সময় মন্দিরের ফটকে তালা দেওয়া ছিল না। সেই সুযোগে ৩০-৩২ বছর বয়সের সাদা গেঞ্জি পরিহিত এক যুবক মুকুটটি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছেন। ফুটেজটি স্থানীয় লোকজনকে দেখানো হয়েছে। কিন্তু কেউ তাকে শনাক্ত করতে পারছেন না। খুব দ্রুতই তাকে আটক করতে সক্ষম হবেন বলে তারা আশাবাদী।
স্থানীয় ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জিএম শোকর আলী বলেন, মুকুট চুরি করা যুবক এলাকার নন। বিভিন্ন এলাকার মানুষকে ভিডিও দেখানো হলেও কেউ চিনতে পারছেন না। ওই যুবককে ২-৩ দিন ধরে মন্দিরের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন বলে অনেকেই জানিয়েছেন।
এদিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের যশোরেশ্বরী মন্দিরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া প্রতিমার মাথার স্বর্ণের মুকুট চুরি হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন। শুক্রবার (১১ অক্টোবর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে উদ্বেগ জানায় দেশটির হাইকমিশন।
ওই ফেসবুক পোস্টে লেখা হয়, ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে সাতক্ষীরা জেলার যশোরেশ্বরী কালী মন্দিরে যে মুকুট উপহার দেওয়া হয়েছিল, সেটি চুরি হয়ে যাওয়ার খবর আমরা দেখেছি। আমরা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং চুরির তদন্ত, মুকুট উদ্ধার ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ জানাচ্ছি।
শ্যামনগর উপজেলা হিন্দু ছাত্র মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক অনুপম কুমার ঘোষ বলেন, মুকুট চুরি হয়ে যাওয়ার পর পুরোহিত, তত্ত্বাবধায়কসহ ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মন্দিরটি সর্বজনীন নয়। সেখানে কোনো কমিটিও নেই। দুজন ব্যক্তি মন্দিরটিকে প্রায় পারিবারিক মন্দির হিসেবে কুক্ষিগত করে রেখেছেন। কমিটি না থাকায় মামলার বিষয়টি হয়তো দেরি হচ্ছে। গতকাল বিকেল থেকেই মন্দিরটি তালাবদ্ধ আছে। শুক্রবার সেখানে কোনো পূজা হয়নি।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ২টা ৪৭মিনিট থেকে ২টা ৫০মিনিটের মধ্যে স্বর্ণের মুকুটটি চুরি হয়। এ ঘটনার পর মন্দিরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে এক যুবককে মুকুটটি চুরি করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।