ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে বিয়েবাড়িতে প্রতিপক্ষের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বাবা-ছেলেসহ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন চারজন। তাদের শরীরে ছররা গুলি লেগেছে।
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের বড়িকান্দি পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন- বড়িকান্দি পশ্চিমপাড়া গ্রামের খলিল মিয়া (৫৫), তার ভাই অলিল মিয়া (৫০), অলিলের ছেলে মো. হাসিব (২৫), খলিল ও অলিলের ভাগনে নাফিস আহমেদ (১৯)। তাদের মধ্যে খলিল, অলিল ও তার ছেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, পূর্ববিরোধের জেরে ওই বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়িকান্দি এলাকার মনেক মিয়ার সঙ্গে খলিল মিয়ার পরিবারের বিরোধ চলে আসছে। রবিবার রাতে অলিলের ছেলে সাইফ ইমরানের গায়েহলুদের অনুষ্ঠান চলছিল। তখন স্থানীয় একটি মসজিদ থেকে ব্যাটারি চুরির অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়। তাদের বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন স্থানীয়রা। আটক দুইজনই মনেকপক্ষের।
এক পর্যায়ে আটক দুইজন জানান, তারা পাশের বাড়ির মালন মিয়ার ছেলে হৃদয়ের কাছ থেকে ইয়াবা কেনেন। পরে লোকজন ওই ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করে। এরপর সোমবার সকালে হৃদয় ও মনেক মিয়ার লোকজনের সঙ্গে অলিল মিয়ার লোকজনের বাক্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মনেক মিয়া, হৃদয়ের বাবা মালন ও মনেক মিয়ার লোকজন অলিল মিয়া ও তাদের পরিবারের ওপর হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুর করেন। এতে খলিল, অলিল, তার ছোট ভাই অলিল মিয়া, অলিলের ছেলে হাসিব ও ভাগনে নাফিস গুলিবিদ্ধ হন।
আহতদের মধ্যে অলিল ও নাফিসকে উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অন্যদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনেরা। অবস্থার অবনতি হলে খলিল, অলিল ও তার ছেলে হাসিবকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কিশলয় সাহা বলেন, “নাফিস নামের একজনের পিঠ, বাঁ পা ও বাঁ হাতের একটি আঙুলে ছররা গুলি লেগেছে। অলিল মিয়ার ঊরু, হাঁটুসহ শরীরের কয়েকটি জায়গায় ছররা গুলি লেগেছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।”
আহত ব্যক্তিদের স্বজন নাসির উদ্দিন বলেন, “চুরির ঘটনা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় মনেক ও তার লোকজন বিয়েবাড়িতে হামলা চালায়। তারা গুলি করে বাড়িঘর ভাঙচুর করে। বর্তমানে তিনজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।”