চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা

নোয়াখালীর কবিরহাটে চোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তবে নিহত জহির উদ্দিন (৪০) বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ছবিরপাইক গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।

নিহত জহির উদ্দিন বিবিরহাটের সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর লামছি গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর শনিবার রাতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন হাবিব উল্যাহ (৪৫), আবদুর রব (৬৫) ও অজিউল্লাহ (৪০)।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, ছবিরপাইক গ্রামের একটি দোকানে চুরির অভিযোগে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী জহির উদ্দিনকে আটক করেন এলাকার কিছু লোক। তারা তাকে ভোররাত সাড়ে চারটা থেকে সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় পিটিয়ে নানাভাবে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করেন। মারধরের পর গুরুতর আহত জহির উদ্দিনকে একটি ‍খুঁটির সঙ্গে বেঁধেও মারধর করা হয়। পরে খুঁটিতে বাঁধা অবস্থায় জহির মারা যান।

ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, জহিরকে অন্ধকারের মধ্যে মাটিতে ফেলে মারধর করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে একজনকে জহিরের চোখ উপড়ে ফেলার কথা বলতেও শোনা গেছে। মারধরকারীরা তার চোখ, মুখ, হাত, পা–সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে খুঁচিয়ে জখম করে স্বীকারোক্তি আদায় করার চেষ্টা করেন। ভোররাত থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত দফায় দফায় তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। সেই অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় জহিরের মা নাজিয়া খাতুন বাদী হয়ে শনিবার কবিরহাট থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার তিনজন ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় মোট আসামি করা হয়েছে ৩৩ জনকে। এর মধ্যে আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আর বাকি ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রবিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন মিয়া সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, “গতকাল সকাল সাড়ে আটটার দিকে আমরা ছবিরপাইক এলাকায় এক ব্যক্তিকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার খবর পাই। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ওই ব্যক্তি মারা যান। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।”

নিহত জহিরের মা নাজিয়া খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, “আমার ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী। যারা চোর সাজিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই।”

সুন্দলপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. হানিফ প্রথম আলোকে বলেন, “নিহত জহির উদ্দিন একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। তিনি সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা পেতেন। কিছুটা মানসিক সমস্যাও তার রয়েছে। অনেক সময় মানুষের রান্নাঘরে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তেন। এ রকম একজন ব্যক্তিকে এভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা ঠিক হয়নি বলেও উল্লেখ করেন এই ইউপি সদস্য। তিনি জানান, জহির উদ্দিন চার সন্তানের জনক ছিলেন।”

এদিকে কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, নিহত জহির উদ্দিন ২০২০ সাল থেকে সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে সরকারের প্রতিবন্ধী ভাতা পেয়ে আসছিলেন।