হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন লেখক, বইমেলায় কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ ‘সব্যসাচী’র স্টল

অমর একুশে বইমেলার “সব্যসাচী” প্রকাশনীর স্টলে তসলিমা নাসরিনের বই রাখার অভিযোগে একদল বিক্ষুব্ধের তোপের মুখে পড়েছেন মো. মিরাজ নামে এক লেখক। বিক্ষোভের মুখে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হয়েছে তাকে। এছাড়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় “সব্যসাচী” প্রকাশনীর স্টলটি।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার সব্যসাচীর স্টলে এই বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের সাহায্যে মেলা থেকে বের করে নেওয়া হয় লেখক মিরাজকে।

এছাড়া এ সময় সেখান থেকে একজনকে পুলিশ হেফাজতেও নেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সব্যসাচীর স্টলে তসলিমা নাসরীনের বই বিক্রির প্রতিবাদে সব্যসাচীর স্টলে ভিড় করে একদল লোক। লেখক মিরাজ তখন সেখানেই বসে ছিলেন। তসলিমা নাসরীনের বই কেন বিক্রি করছেন প্রশ্নকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মিরাজ “জয় বাংলা” স্লোগান দিলে উত্তেজিত লোকজন তাকে মারতে যায়। এ সময় তাকে কানে ধরে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও ওঠে। একপর্যায়ে এই লেখক হাতজোড় করে ক্ষমা চান এবং পুলিশ তাকে নিয়ে চলে যায়।

এছাড়া সেখান একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলম সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এই ঘটনায় আমরা সব্যসাচী প্রকাশনার শতাব্দী ভব নামে একজনকে হেফাজতে নিয়েছি। তাকে আটক করা হয়নি। তিনি নিষিদ্ধ বই বিক্রি করছিলেন এমন অভিযোগেই আমরা তাকে হেফাজতে নিয়েছি।"

বিষয়টি নিয়ে বইমেলা টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক ড. সেলিম রেজা অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে সব্যসাচী স্টলটি বন্ধ করা হবে কিনা সে ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। স্টলটি কিছুক্ষণ বন্ধ রাখার পর এখন খোলা রাখা হয়েছে। বইমেলা কমিটি ও সেখানে উপস্থিত থাকা আমাদের টাস্কফোর্সের সঙ্গে আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এ ধরনের ঘটনা অপ্রত্যাশিত।”

উল্লেখ্য, এই ঘটনার আগে থেকেই স্টলে তসলিমা নাসরিনের বই রাখার কারণে সব্যসাচী প্রকাশনীকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছেন সব্যসাচী প্রকাশনীর প্রকাশক মেহরান সানজানা। হুমকির পর স্টল থেকে তসলিমা নাসরীনের লেখা "চুম্বন" বইটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তসলিমা নাসরিনের বই রাখার কারণে স্টলটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করতেও দেখা গেছে অনেককে।