কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে শব-ই-বরাতে রাতে নামাজরত অবস্থায় মসজিদে ঢুকে হামলার ঘটনায় আহত একজনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নিহতের নাম ইব্রাহীম খলিল (৫০)। তিনি উপজেলার পৌর এলাকার ফতেহাবাদ দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা। ফতেহাবাদ বায়তুল আল আকসা জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক মাস আগে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী নয়াকান্দি গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে ফতেহাবাদ দক্ষিণপাড়া গ্রামের ছেলেদের মারামারি হয়। ওই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার বিকেলে নয়াকান্দি গ্রামের একজনকে মারধর করা হয়। পরে রাত ৮টার দিকে নয়াকান্দি গ্রামের ছেলেরা ফতেহাবাদ গ্রামের কামরুলকে রাস্তায় পেয়ে মারধর করে। এ সময় কামরুলের সঙ্গে থাকা সহপাঠীরা দৌড়ে মসজিদে আশ্রয় নেয়। তাদের ধাওয়া করে মসজিদে ঢুকে পড়ে নয়াকান্দি গ্রামের ছেলেরা। এ সময় মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং মসজিদে ভাঙচুর চালায়। তাদের বাধা দিলে তারা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীমসহ চারজনকে পিটিয়ে আহত করা হয়। একপর্যায়ে মসজিদের ইমাম মাইকে ঘোষণা দেন মসজিদে ডাকাত পড়েছে। পরে আক্রমণকারীরা পালিয়ে যান।
হামলায় আহত হন মসজিদের সেক্রেটারি মো. ইব্রাহীম, ফতেহাবাদ গ্রামের ইসমাইল (৩৫), কামরুল (১৯) ও কাওসার (২৮)। এদের মধ্যে ইব্রাহীম খলিল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
মসজিদে হামলার ঘটনায় ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ইব্রাহীম খলিলের বড় ভাই মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে ২১ জনকে অভিভুক্ত এবং অজ্ঞাত ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামসুদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াছ ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে শব-ই-বরাতের রাতে ফতেহাবাদে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এ সময় মসজিদে হামলা ও ভাঙচুর হয়। এ ঘটনায় আহত ইব্রাহীম খলিল মারা গেছেন। আসামিদের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।