বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুনতাসির আল জেমি কারাগার থেকে পালিয়েছেন। এ খবর সামনে আসার পর প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে বুয়েট শহিদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরদিন গত ৬ অগাস্ট ওই আসামি জেল থেকে পালিয়েছে বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ এবং ওই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জসিম উদ্দিন।
আবরারের বাবা বলেন, “আজকে শুনানির শেষ পর্যায়ে বিচারপতি জানতে চান, কোন কোন আসামির পক্ষে কোন কোন আইনজীবী আছেন। তখন সেখানেই জানানো হয় যে কাশিমপুর কারাগার থেকে মুনতাসির আল জেমি পালিয়েছে।”
বরকত উল্লাহ জানান, গত ৬ অগাস্ট ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুনতাসির আল জেমি কারাগার থেকে পালালেও আজ প্রথম তিনি তা জানতে পারেন আদালতে মামলার শুনানির সময়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জসীমউদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আদালতে মামলার শুনানির সময় কার কার পক্ষের আইনজীবী আমরা পাই নাই। এর মধ্যে তিনজন আগেই পলাতক ছিল। এই জেমি পালিয়েছে ৬ আগস্ট। তাই ওনার কোনো আইনজীবী আজ আদালতে ছিল না। জেমির সঙ্গে জেলে থাকা আরেক আসামির মাধ্যমেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।”
আইনজীবী জসীমউদ্দিন জানান, একই সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী ও কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেও বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আবরার ফাহাদের ছোট ভাই বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাইয়াজ লিখেছেন, “আবরার ফাহাদ হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি জেমি জেলখানা থেকে পালিয়ে গেছে ৫ আগস্টের পর। অথচ আমাদের জানানো হচ্ছে আজকে, যখন ওর আইনজীবী কোনো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে আসেনি তখন। ফাঁসির আসামির তো কনডেম সেলে থাকার কথা ছিল, সে পালায় কীভাবে!”
আবরার ফাইয়াজ আরও লিখেন, “পালানোর পরেও এ তথ্য বাইরে না আসা তো এটাই প্রমাণ করে যে, তাকে ধরতেও কোনো চেষ্টা করা হয়নি। পূর্বে থেকেই আরো ৩ জন পলাতক আছে।”
ফাঁসির আসামি মুনতাসির আল জেমি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।