ঈদ-উল-ফিতরের টানা ছুটিতে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত বান্দরবানের বিনোদন কেন্দ্রগুলো। জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভিড় করছেন সৌন্দর্য পিপাসুরা। ফলে হোটেল-মোটেল রিসোর্টগুলোও কানায় কানায় পরিপূর্ণ। দীর্ঘদিন পর আশানুরুপ পর্যটক আসায় খুশি পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
বুধবার (২ এপ্রিল) বান্দরবানের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলো ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়।
ঢাকা থেকে বান্দরবানের মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে বেড়াতে আসা পর্যটক মো.জহির বলেন, “টানা ছুটিতে বান্দরবানে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি, প্রাকৃতির সান্নিধ্যে ভালো সময় কাটছে আমাদের।”
নীলাচল পর্যটন কেন্দ্র ঘুরতে যাওয়া পর্যটক শহিদুল ইসলাম বলেন, “আবহাওয়ার কারণে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও বান্দরবানের প্রকৃতির অপরুপ রুপ যে কাউকে সহজেই মুগ্ধ করে।”
বান্দরবানে পাহাড়-পর্বত ছাড়াও রয়েছে অসংখ্য ঝিরি-ঝরনা, মেঘলার লেক, স্বর্ণমন্দির, নীলাচল, নীলগিরি, শৈলপ্রপাত, নাফাকুম, রেমাক্রি, চিম্বুক, নীলদিগন্তসহ অনেক পর্যটন স্পট। সবকিছু মিলিয়ে টানা ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকের পদভারে এখন মুখর হয়ে উঠছে বান্দরবান। ফলে পুরো শহর জুড়েই পরিণত হয়েছে পর্যটকদের মিলন মেলায়। পর্যটকের বাড়তি চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউজ, রেস্ট হাউজ মালিকসহ পর্যটনশিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।
অরণ্যে ঘেরা পাহাড়ের সঙ্গে মারমা, ম্রো, ত্রিপুরা, বম, তংচঙ্গ্যা, চাকমা, চাক, খেয়াং, খুমী, লুসাই, কুকি, পাংখোসহ মোট ১১টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সরল জীবনযাপনের এ আবাসস্থল ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দু। তাই পর্যটকদের আনাগোনা লক্ষণীয় পর্যটন স্পটগুলোতে।
বান্দরবান শহরে হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির আওতাভুক্ত ৫৫টি হোটেলসহ শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, গেস্ট হাউস রয়েছে। এছাড়াও পর্যটক পরিবহনে রয়েছে সাড়ে চার শতাধিক চাঁদের গাড়ি, তিন শতাধিক নৌ যান। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
বান্দরবান জিপ-মাইক্রো-কার মালিক সমবায় সমিতির লাইন পরিচালক মো.কামাল বলেন, “বান্দরবান জিপ-মাইক্রো-কার মালিক সমবায় সমিতির আওতায় প্রায় ৪৫০টি চাঁদের গাড়ি, জিপ ও মাইক্রোবাস রয়েছে। বেড়াতে আসা পর্যটকরা এই চাঁদের গাড়িতে পাহাড়ি আঁকা-বাকা রাস্তায় ঘুরে আনন্দ উপভোগ করেন।”
এদিকে বিনোদন কেন্দ্রের পাশাপাশি জেলার হোটেল-মোটেলগুলোতে বেড়েছে পর্যটকদের সমাগম, আর পর্যটকদের সমাগম বাড়ায় লাভবান হওয়ায় প্রত্যাশা করছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো.সিরাজুল ইসলাম বলেন, “ঈদের বন্ধে বান্দরবানে পর্যটকের আগমন বেড়েছে। আমরা নির্দেশনা দিচ্ছি, বেড়াতে আসা পর্যটকরা যাতে পর্যাপ্ত সেবা পান।”
এদিকে বান্দরবানে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
এই বিষয়ে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক (ডিসি) শামীম আরা রিনি জানান, পর্যটকরা যাতে নিরাপত্তার সঙ্গে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণ করতে পারেন, সেজন্য প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পুলিশ ও ট্যুারিস্ট পুলিশের সদস্যরা ও নিয়মিত নিরাপত্তার জন্য কাজ করছেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২ ও ৩ এপ্রিল জেলার রুমা ও থানচিতে ব্যাংক ডাকাতি-অস্ত্র লুটের ঘটনায় রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয় প্রশাসন। তবে রোয়াংছড়িতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উঠলেও রুমা ও থানচিতে এখনও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।