রাজশাহীর পবা উপজেলায় ট্রাকের সঙ্গে দুটি বাসের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪১ জন। তাদেরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রবিবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর খড়খড়ি বাজার এলাকার বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তিনজন হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোড়া পাখিয়া গ্রামের সাদিকুল ইসলামের ছেলে জুয়েল আহমেদ (৪০), বেলায়েত হোসেনের ছেলে নাসিম উদ্দিন (৪৫) ও জোবদুল হকের ছেলে মিজানুর রহমান। তারা রানীহাটি ইউনিয়ন জামায়াতের কর্মী ছিলেন।
আহত ৪১ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হাসপাতালের ৫, ৮ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে ট্রাকের চালকও রয়েছেন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী নগরের চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার রানীহাটি ইউনিয়ন জামায়াতের ইসলামীর নেতাকর্মীরা দুটি বাসে করে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, আলী আহসান মুহাম্মদ মোজাহিদ ও কাদের মোল্লার কবর জিয়ারত এবং পদ্মা সেতু ও বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ ভ্রমণে যাচ্ছিলেন। গতকাল রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বাস দুটি রওনা হয়। দুই বাসে ৯০ জন যাত্রী ছিলেন। রাত ১২টার দিকে পবার খড়খড়ি বাইপাস এলাকায় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে বাস দুটির সংঘর্ষ হয়। একটি বাস রাস্তা থেকে ছিটকে রাস্তার নিচে খাদে পড়ে যায়। আরেকটি বাস রাস্তার অন্য পাশে একটি দোকানে ঢুকে যায়। এই বাসের একটি অংশে আগুন ধরে যায়। পরে শুরুতে স্থানীয় লোকজন এসে বাসের যাত্রীদের উদ্ধার করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেন।
পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিস কর্মিরা নিশ্চিত করেছেন যে ঘটনাস্থল থেকে তারা কোনো মরদেহ পাননি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নেতারা।
মহানগর জামায়াতের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকার ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, দুইটি বাসে প্রায় ৯০ জন যাত্রী ছিলেন। যাদের সবাই চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার রাণীহাটি ইউনিয়ন শাখা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও সমর্থক। প্রয়াত জামায়াত নেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে তারা পিরোজপুর যাচ্ছিলেন।
চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান জানান, দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আহতদের উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হবে।