আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ বন্ধ, বাড়তে পারে লোডশেডিং

কারিগরি ত্রুটির কারণে ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের গোড্ডায় নির্মিত আদানি গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে বাংলাদেশে লোডশেডিং বাড়তে পারে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। ওই দুটি ইউনিট থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

জানা গেছে, গত ৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিট এবং শুক্রবার (১২ এপ্রিল) রাতে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এতে সরবরাহে কিছুটা ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের রাষ্ট্রীয় সঞ্চালন সংস্থা পাওয়ার গ্রিড পিএলসি বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন।

পিডিবি ও পিজিসিবির কর্মকর্তারা জানান, কারিগরি ত্রুটিতে প্রথমে এক ইউনিট, পরে আরেক ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। আদানি জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। তারা দ্রুত মেরামতের চেষ্টা করছে।

এদিকে গত ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ১৭.১৩% এসেছে ভার‍ত থেকে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, ৭ এপ্রিল দুপুর ১টায় ভারত থেকে আদানির ১,৩০৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে এসেছে। রাতে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় বিদ্যুৎ আসার পরিমাণ আরও বাড়ে। তবে কাল পিক আওয়ার বা সন্ধ্যায় আদানি থেকে ঘণ্টা প্রতি ১ হাজার ৩৬০ থেকে ১,৩৬৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এসেছিল। ৮ এপ্রিলের পরও ৭৫০ মেগাওয়াটের বেশি সরবরাহ করা হয়।

এই চৈত্রের গরমে বর্তমানে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৬ থেকে ১৬,৫০০ মেগাওয়াট হয়ে থাকে। এদিকে শনিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরের হিসেবে ৩০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে। আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ শুরু না হলে আগামীকাল লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) জহুরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে আদানি। চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি মেটাতে তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাড়তি উৎপাদনের চেষ্টা করা হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ২৫ বছর ধরে কিনবে বাংলাদেশ। প্রথম ইউনিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিলে। দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয় একই বছরের জুনে। ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি করে পিডিবি। আদানির সঙ্গে পিডিবির চুক্তি পর্যালোচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত একটি কমিটি কাজ করছে।